কেপ ভার্দে জাতীয় দলের জার্সি তৈরি হয়েছে বাংলাদেশে। ছবি: এএফপি
বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের সাফল্যের মুকুটে যুক্ত হয়েছে নতুন এক পালক। আফ্রিকার দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দের জাতীয় ফুটবল দলের ২০২৬ -বিশ্বকাপের জার্সি তৈরি হয়েছে ঢাকার একটি কারখানায়।
সংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিক মানের স্পোর্টসওয়্যার উৎপাদনে বাংলাদেশের সক্ষমতার এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি।
ঢাকার গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যান্ড অ্যাসেম্বলিং লিমিটেডে তৈরি জার্সি পরেই কেপ ভার্দের ফুটবলাররা এবারের বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিলেন। প্রতিষ্ঠানটি শুধু কেপ ভার্দের জন্যই নয়, লেবাননের নারী জাতীয় দল, সার্বিয়া এবং ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর জাতীয় দলের জন্যও স্পোর্টসওয়্যার সরবরাহ করেছে।
জার্সি রপ্তানির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, বর্তমানে ১০০টির বেশি দেশে বাংলাদেশ থেকে জার্সি রপ্তানি হচ্ছে। তবে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী কোনো দেশের জাতীয় দলের জার্সি উৎপাদনের ঘটনা বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিশ্বের ১০৯টি দেশে বাংলাদেশ থেকে মোট ৬১ কোটি ৮৮ লাখ ৪৯ হাজার ৪০৩টি জার্সি রপ্তানি হয়েছে। এর শুল্কায়ন মূল্য প্রায় ৩৬ হাজার ৯৫৮ কোটি টাকা। সর্বাধিক জার্সি রপ্তানি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। এরপর যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, সুইডেন, পোল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, ইতালি, স্পেন, ডেনমার্ক ও কানাডায় রপ্তানি হয়েছে।
রাজধানীর তুরাগ থানার নিশাতনগর রাজাবাড়ি এলাকায় অবস্থিত গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যান্ড অ্যাসেম্বলিং লিমিটেড ২০১৯ সালে উৎপাদন শুরু করে। প্রতিষ্ঠানটি গত ছয়-সাত বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ব্র্যান্ড ক্যাপেলি স্পোর্টসের জন্য স্পোর্টসওয়্যার, মোজা এবং প্লেয়ার কিটস তৈরি করছে। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি বছর কেপ ভার্দের জাতীয় দলের জার্সি উৎপাদন করা হয়েছে।
এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর প্রতিষ্ঠানটি কেপ ভার্দেতে ১২ হাজার ৫৭৩টি জার্সি, শার্ট ও জ্যাকেট রপ্তানি করেছে।
গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যান্ড অ্যাসেম্বলিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুশতাক আহমেদ খান বলেন, কেপ ভার্দের জাতীয় দলের জন্য জার্সি উৎপাদন প্রতিষ্ঠানটির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। তার দাবি, মার্চ থেকে জুনের মধ্যে বিশ্বকাপের আগে ২৫ থেকে ৩০ হাজার পিস জার্সি সরবরাহ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী জাতীয় দলের জার্সি উৎপাদন সাধারণ পোশাক তৈরির মতো নয়। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা এবং সংশ্লিষ্ট ফুটবল ফেডারেশনের অনুমোদনসহ বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করতে হয়। নকশা ও মান নিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন পর্যায়ে একাধিকবার সংশোধনেরও প্রয়োজন হয়। তাই জার্সি সরবরাহ বিশ্বকাপের আগে হলেও এর উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরু হয় অনেক আগে।
মুশতাক আহমেদ বলেন, স্পোর্টসওয়্যার উৎপাদনে কাঁচামাল সংগ্রহ থেকে চূড়ান্ত পণ্য প্রস্তুত পর্যন্ত কঠোর মান নিয়ন্ত্রণ অনুসরণ করা হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সাত থেকে আটটি ধাপে পণ্যের মান যাচাই করা হয়, যা আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থা অর্জনে সহায়ক হয়েছে।
তিনি জানান, কেপ ভার্দের পাশাপাশি লেবাননের নারী জাতীয় দল, সার্বিয়া এবং ত্রিনিদাদ ও টোবাগো ফুটবল ফেডারেশনের জন্যও জার্সি তৈরি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্লাব এবং বাস্কেটবল, ভলিবল ও বেসবলসহ বিভিন্ন খেলার দলের স্পোর্টসওয়্যারও তারা উৎপাদন করছে।