বিআইডব্লিউটিএ ঘাটের টোল দ্বিগুণ করার প্রতিবাদে তাহিরপুর উপজেলার শ্রীপুর ঘাটে টানা ছয়দিন ধরে কর্মবিরতি পালন করছেন নৌ-শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা। প্রবা ফটো
মাত্র এক বছরের ব্যবধানে বিআইডব্লিউটিএ ঘাটের টোল দ্বিগুণ করার প্রতিবাদে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার শ্রীপুর ঘাটে টানা ছয়দিন ধরে কর্মবিরতি পালন করছেন নৌ-শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা। কোনো প্রকার আগাম আলোচনা বা ঘোষণা ছাড়া টোলের হার ৩৪ টাকা ৫০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৭০ টাকা করার প্রতিবাদে শত শত কয়লা ও চুনাপাথর বোঝাই বাল্কহেড নৌযান নিয়ে ঘাটে অবস্থান নিয়েছেন তারা। এতে স্থবির হয়ে পড়েছে নদীপথে পণ্য পরিবহন কার্যক্রম।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তাহিরপুরের সীমান্ত দিয়ে বয়ে যাওয়া পাঠলাই নদীর কামালপুর এলাকায় অবস্থিত শ্রীপুর বিআইডব্লিউটিএ ঘাটে আটকা পড়ে আছে শত শত নৌযান। পণ্য পরিবহন বন্ধ থাকায় অলস সময় পার করছেন শ্রমিকরা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঘাটের টোল অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ায় পণ্য পরিবহনের খরচে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে, যা তাদের ব্যবসায়িক লোকসানের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
নৌ-শ্রমিকরা জানান, গত ৩০ জুন পর্যন্ত প্রতি টন কয়লা ও পাথর পরিবহনে টোল ছিল ৩৪ টাকা ৫০ পয়সা। কিন্তু নতুন অর্থবছরের শুরুতেই কোনো ধরনের আলোচনা ছাড়াই তা প্রায় দ্বিগুণ করে ৭০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। স্থানীয় শ্রমিক নেতারা বলেন, ‘যে পরিমাণ ভাড়া পাই, তার চেয়ে বেশি টাকা চলে যায় ঘাটের টোলে। প্রতিটি ট্রিপে অতিরিক্ত কয়েক হাজার টাকা ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় আমরা পণ্য পরিবহন বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছি।’
নৌকা চালক জুয়েল মিয়া বলেন, ‘১ জুলাই থেকে টোল দ্বিগুণ হয়েছে। যার কারণে আমরা ঘাটেই অবস্থান করছি। পূর্বের অবস্থায় টোল ফিরিয়ে না আনলে আমরা নৌকা চালাবো না ।’
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) সিলেট আঞ্চলিক দপ্তরের উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, ‘সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই চলতি অর্থবছরে প্রতি মেট্রিকটন পাথর ও কয়লা ওঠানামার টোল ৭০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছেন সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল। তিনি বলেন, ‘ঘাটে টোল আদায়ের নির্দিষ্ট সরকারি রেট রয়েছে। সেই রেটের বাইরে একটি টাকাও বেশি নেওয়া যাবে না। যারা সরকারি রেটের বেশি টাকা দাবি করবে, তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা হবে। বিষয়টি প্রশাসনকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে বলা হয়েছে।’