‘স্ত্রীকে হত্যার পর মাটিচাপা’
জিজ্ঞাসাবাদে আলমগীর হোসেনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিজ বাড়ির উঠান থেকে উদ্ধার করা হয় স্ত্রী জাহেদা বেগমের অর্ধগলিত মরদেহ। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
মৌলভীবাজারের রাজনগর থানায় স্ত্রী নিখোঁজ হয়েছেন দাবি করে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে এসে পুলিশের সন্দেহের মুখে আটক হন আলমগীর হোসেন (২৭)।
পরে জিজ্ঞাসাবাদে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিজ বাড়ির উঠান থেকে উদ্ধার করা হয় স্ত্রী জাহেদা বেগমের অর্ধগলিত মরদেহ।
রাজনগর থানা পুলিশ জানায়, গত ২০ জুন রাতে পারিবারিক কলহের জেরে আলমগীর শ্বাসরোধ করে স্ত্রীকে হত্যা করেন। এরপর গভীর রাতে বাড়ির উঠানে প্রায় আট ফুট গভীর গর্ত খুঁড়ে মরদেহ মাটিচাপা দেন।
ঘটনার পর স্ত্রী নিখোঁজ বলে প্রচার চালানোর পাশাপাশি শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে খোঁজাখুঁজির ভানও করেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
পুলিশের ভাষ্য, ঘটনার মোড় ঘোরাতে ৫ জুলাই আলমগীর নিজেই রাজনগর থানায় গিয়ে স্ত্রী নিখোঁজের বিষয়ে জিডি করতে চান। তবে জিডি করার সময় তার বক্তব্যে অসংলগ্নতা ও আচরণে অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করেন কর্তব্যরত কর্মকর্তারা।
একপর্যায়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেন এবং মরদেহ কোথায় পুঁতে রাখা হয়েছে, সেই তথ্য দেন বলেও জানায় পুলিশ।
এরপর সোমবার সকালে আলমগীরের দেখানো স্থান থেকে বাড়ির উঠানের মাটি খুঁড়ে জাহেদা বেগমের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
রাজনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ফরিদ উদ্দিন আহমদ ভূঁইয়া জানান, আলমগীরকে আটক করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। তদন্ত শেষে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।