গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে
আপডেট : ২ ঘণ্টা আগে
ময়মনসিংহের গৌরীপুরে হাওয়ার রেস্টুরেন্টের কর্মকর্তা আব্দুল বারেক আকন্দ ওরফে মজনু মুন্সি (৪৫) রবিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে নিহত হন। প্রবা ফটো
ময়মনসিংহের গৌরীপুরে হাওয়ার রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড পার্টি সেন্টারের কর্মকর্তা আব্দুল বারেক আকন্দ ওরফে মজনু মুন্সি (৪৫) রবিবার (৫ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে নিহত হন।
নিত্যদিনের মতো জিনিসপত্র
ক্রয় করে বয়ড়া বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। নিহতের ছেলে মাজহারুল ইসলাম আকন্দ আকাশ
দেশকে বহিশত্রুমুক্ত রাখতে কুমিল্লায় সীমান্ত পাহারায় কর্মরত আছেন।
তিনি জানান, রবিবার রাতে ভাংনামারী
ইউনিয়নের বয়ড়া বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে কিশোর গ্যাং পথরোধ করে। তাদের আমার বাবা চিনে
ফেলার কারণেই মূলত ছুরিকাঘাত করে। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল
কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে রাস্তায় মারা যান তিনি। মৃত্যুর আগে আমার বাবা বলে গেছেন,
দুর্বারচর পশ্চিমপাড়ার ৩ জন ছিল।
তিনি আরও জানান, ছিনতাইকারীরা
বয়ড়া বাজার থেকে আসা অন্য কোনো লোককে আটক বা ছিনতাই করতে চেয়েছিল। ভুলবশত আমার বাবাকে
পথরোধ করে। পরে বুকে-পেটে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে। ঘাতকদের একজন আমার বাবার মোবাইল
থেকে আমাকে ফোন দেওয়ার পর ১৩ সেকেন্ড হাই-হ্যালো করা হলেও কোনো কথা বলেনি। এরপরে ওরা
আমার বোন মাহিয়া আক্তার বৃষ্টিকে বাবার নাম্বার থেকে ফোন দেয়, তখন ওদের একজন বলেছে
‘আপনার বাবাকে আমি মারেনি, আরেকজন ছুরি মেরে দিয়েছে।’
এলাকাবাসী বলেন, তার ছেলে
আকাশ সীমান্তে অতন্দ্র প্রহরী। দেশের নিরাপত্তায় জীবনবাজি রেখে কাজ করছে। অথচ নিজের
এলাকাতেই নিরাপদ ছিলেন না তার বাবা। নৃশংসভাবে খুন হয়েছে। এটি শুধু একটি পরিবারের শোক
নয়; আমাদের সমাজের আইনশৃঙ্খলা ও নাগরিকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও এক গভীর প্রশ্ন
তুলে ধরে? এছাড়াও এ ইউনিয়নে এ সপ্তাহে আরও একটি খুন হয়েছে। সাধারণ মানুষ পুরো নিরাপত্তাহীনতায়
দিন কাটাচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে গৌরীপুর থানার
অফিসার ইনচার্জ হাবিবুর রহমান জানান, রাতে ঘটনাস্থলে আমরা গিয়েছি। জড়িতদের শনাক্ত করার
কাজ চলছে। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।