× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

কক্সবাজারে পাহাড়ধসে ৯ জনের মৃত্যু

কক্সবাজার প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১ ঘণ্টা আগে

আপডেট : ৩১ মিনিট আগে

কক্সবাজারে পাহাড়ধসে হতাহতদের উদ্ধারে কাজ করে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা। ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারে পাহাড়ধসে হতাহতদের উদ্ধারে কাজ করে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা। ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারে ভারীবর্ষণে উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পসহ চারটি স্থানে পাহাড়ধসে নারী-শিশুসহ ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এর মধ্যে উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৃথক তিনটি পাহাড়ধসের ঘটনায় ৮ জন ও কক্সবাজার শহরে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় আহত হয়েছে অনেকে।

সোমবার দিনগত রাত ১টার পর থেকে ভোর রাত ৪টার মধ্যে এসব ঘটনা ঘটে।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, স্থানীয় প্রশাসন, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ও স্বেচ্ছাসেবীরা রাতেই উদ্ধার অভিযান চালিয়ে হতাহতদের উদ্ধার করেন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নিহতরা হলেন, উখিয়া উপজেলার ১৫ নম্বর জামতলী ক্যাম্পের ডি/৬ ব্লকের মোহাম্মদ কামাল হোসাইন (৪৪), তার স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) ও পুত্র মোহাম্মদ আনাস (৪), কুতুপালং ৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৭ ব্লকের মোহাম্মদ রশিদের ছেলে একরাম (৭), বালুখালী ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সি/১১ ব্লকের আব্দুর রাজ্জাকের ২ মেয়ে উম্মে হাবিবা (২৭) ও তানজিনা আক্তার (১৩), একই পরিবারের মোহাম্মদ রশিদের ২ শিশু পুত্র মোহাম্মদ রিহান (৫) ও হারুনুর রশিদ (৩) এবং কক্সবাজার শহরের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের ছাত্তার ঘোনা এলাকায় পাহাড়ধসে আলী আকবর (৫০)।

ফায়ার সার্ভিস জানায়, রাত ১টা ১০ মিনিটের দিকে উখিয়া উপজেলার ১৫ নম্বর জামতলী ক্যাম্পের ডি/৬ ব্লকে আশ্রিত একটি রোহিঙ্গা বসতঘর মাটি চাপা পড়ে। ওই ঘরে পরিবারের ৫ সদস্য ছিলেন। প্রতিবেশিরা ২ জনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা মোহাম্মদ কামাল হোসাইন, তার স্ত্রী হুমায়রা বেগম এবং পুত্র মোহাম্মদ আনাসের মরদেহ উদ্ধার করে।

রাত পৌনে ২টার দিকে উখিয়া উপজেলার কুতুপালং ৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৭ ব্লকে পাহাড়ের মাটি চাপায় রোহিঙ্গা শিশু একরামের মৃত্যু হয়। ওই ক্যাম্পের মাঝি এনায়েত উল্লাহ জানান, পাহাড় ধসের খবর পেয়ে রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকরা শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করেছে।

রাত ৩টার দিকে বালুখালী ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সি/১১ ব্লকে পাহাড়ধসে একই পরিবারের নারী ও শিশুসহ চারজনের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর আহত হয়েছেন ১ জন।

অন্যদিকে ভোর ৪টার দিকে কক্সবাজার শহরের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের ছাত্তার ঘোনা এলাকায় পাহাড়ধসে আলী আকবরের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরও ২ জন।

স্থানীয়রা জানান, পাহাড় ধসের কারণে একই পরিবারের ৩ জন মাটি চাপা পড়ে। তাদেরকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক আলী আকবরকে মৃত ঘোষণা করেন।

উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন কর্মকর্তা ডলার বলেন, “খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে ৮ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছেন। এছাড়া তিনজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।”

আশ্রয়শিবিরে বসবাসকারী রোহিঙ্গারা জানান, প্রতিবছরের মতো এবারও বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ধসের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরগুলো। বাঁশ, ত্রিপল দিয়ে মাটির ঢালে নির্মিত হাজারো আশ্রয়কেন্দ্র ভারী বৃষ্টিতে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। সামান্য ভূমিধসও মুহূর্তের মধ্যে প্রাণঘাতী রূপ নেয়।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার বলেন, টানা বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে। সবাইকে প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবি মো. আব্দুল হান্নান জানান, সুস্পষ্ট লঘুচাপের প্রভাব এবং সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর কারণে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা আরও বাড়তে পারে। আগামী কয়েক দিন থেমে থেমে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। কক্সবাজার সমুদ্র বন্দরকে ৩ নম্বর সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলো উপকূলের কাছাকাছি থেকে চলাচল করতে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজারে ১৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অফিস। অতিভারী বৃষ্টিপাতের ফলে বিশেষ করে পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে কক্সবাজার সমুদ্র উপকুলে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাচ্ছে। বৃষ্টির কারণে পর্যটন শহরসহ বিভিন্ন সড়ক ও নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ পথচারীদের দুর্ভোগ ও যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা