চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে
আপডেট : ২ ঘণ্টা আগে
তৈলারদ্বীপ সেতুর টোল আদায়ের নতুন টেন্ডার প্রক্রিয়া বন্ধ ও স্থায়ীভাবে টোল মওকুফের দাবিতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি পেশ করছেন ‘বাঁশখালী সচেতন নাগরিক সমাজ’ এর আহ্বায়ক মারুফুল হক চৌধুরী মারুফ।
চট্টগ্রামের আনোয়ারা ও বাঁশখালী উপজেলার সংযোগস্থল শঙ্খ নদীর ওপর নির্মিত তৈলারদ্বীপ সেতুর টোল আদায়ের নতুন টেন্ডার প্রক্রিয়া বন্ধ এবং স্থায়ীভাবে টোল মওকুফের দাবিতে স্মারকলিপি দেয়া হয়েছে। রবিবার (০৫ জুলাই) দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার কাছে এই স্মারকলিপি দেন ‘বাঁশখালী সচেতন নাগরিক সমাজ’ এর আহ্বায়ক ও চসিক মেয়রের একান্ত সহকারী সচিব মারুফুল হক চৌধুরী মারুফ।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়-তৈলারদ্বীপ ব্রিজটি নির্মাণের পর দীর্ঘ বছর ধরে টোল আদায় করার মাধ্যমে ইতিমধ্যে ব্রিজের নির্মাণ ব্যয়ের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে। এই ব্রিজের ওপর দিয়ে বাঁশখালী, সাতকানিয়া, পেকুয়া, মহেশখালী, চকরিয়া, কুতুবদিয়াসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের লাখ লাখ মানুষ প্রতিদিন যাতায়াত করেন। বছরের পর বছর এভাবে টোল আদায় স্থানীয় সাধারণ জনগণ, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী এবং শিক্ষার্থীদের ওপর চরম অর্থনৈতিক বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
স্মারকলিপি প্রদানকালে বাঁশখালী সচেতন সমাজের আহ্বায়ক মারুফুল হক চৌধুরী মারুফ বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের ঊর্ধ্বগতির মাঝে এই টোল আদায় জনসাধারণের যাতায়াত খরচ ও পণ্য পরিবহন ব্যয় বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ব্রিজের নির্মাণব্যয় বহু আগেই উঠে এসেছে। এরপরও সড়ক ও জনপথ বিভাগ কর্তৃক পুনরায় এই ব্রিজের টোল আদায়ের জন্য নতুন করে টেন্ডার (দরপত্র) আহ্বানের প্রক্রিয়া শুরু করায় স্থানীয় জনগণের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। আমরা অবিলম্বে এই জনবিরোধী টেন্ডার প্রক্রিয়া বন্ধের দাবি জানাচ্ছি।
স্মারকলিপিতে উত্থাপিত মূল দাবিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য- তৈলারদ্বীপ ব্রিজের টোল আদায়ের লক্ষ্যে আহ্বান করা নতুন টেন্ডার প্রক্রিয়া অবিলম্বে স্থগিত ও বাতিল; দক্ষিণ চট্টগ্রামের মানুষের যাতায়াত সহজ করতে ব্রিজটিকে সম্পূর্ণ ‘টোলমুক্ত’ ঘোষণা; টোল প্লাজায় সৃষ্ট দীর্ঘ যানজট এবং সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের হয়রানি বন্ধ করতে হবে।
স্মারকলিপি গ্রহণকালে জেলা প্রশাসক বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনার আশ্বাস দেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে জনস্বার্থে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানান।
স্মারকলিপি প্রদানকালে বাঁশখালী সচেতন নাগরিক সমাজের আরো উপস্থিতি ছিলেন এডভোকেট নেজাম উদ্দিন, এডভোকেট সরোয়ার কামাল, এডভোকেট হিরো আলম, আবু বকর সিকদার, হাসান মোহাম্মদ জুনায়েদ রাসেল, আব্দুল ওয়াহেদ সুমন প্রমুখ।