নোয়াখালী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩ ঘণ্টা আগে
অলস পড়ে আছে হাতিয়ার ঘাটগুলো। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
বৈরী আবহাওয়া ও উত্তাল মেঘনা নদীর কারণে নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার সঙ্গে সারা দেশের নৌ যোগাযোগ বন্ধ ঘোষণা করেছে প্রশাসন। ফলে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে হাতিয়া।
দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে রবিবার এ সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন।
এদিন সকাল থেকেই হাতিয়ার নলচিরা ও চেয়ারম্যানঘাটে যাত্রীদের অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। তবে নদী উত্তাল থাকায় এসব ঘাট থেকে সি-ট্রাক, স্পিডবোট, ফেরি কিংবা যাত্রীবাহী ট্রলার চলাচল করেনি।
নলচিরা ঘাটে অপেক্ষমাণ যাত্রী আবদুল কাদের বলেন, জরুরি কাজে নোয়াখালী শহরে যাওয়ার কথা ছিল। সকাল থেকে ঘাটে অপেক্ষা করছি, কিন্তু কোনো নৌযান ছাড়ছে না। এতে দুর্ভোগে পড়েছি। নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় প্রশাসনের সিদ্ধান্ত মেনে নিচ্ছি।
চেয়ারম্যানঘাটে আটকে পড়া আরেক যাত্রী রুবেল হোসেন বলেন, পারিবারিক প্রয়োজনে হাতিয়ায় এসেছিলাম। আজ ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নৌ চলাচল বন্ধ থাকায় আটকা পড়েছি। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে দ্রুত নৌযান চালুর দাবি জানাই।
ফেরি মহানন্দার মাস্টার তোফাজ্জল হোসেন বলেন, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত জারি করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে।
হাতিয়া উপকূলীয় নদীবন্দরের সহকারী বন্দর ও পরিবহন কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, ভোর থেকেই নদী কিছুটা উত্তাল রয়েছে এবং জোয়ারের উচ্চতা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে হাতিয়া-চেয়ারম্যানঘাট ও নলচিরা নৌপথে চলাচলকারী সব ধরনের সরকারি নৌযান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে।
হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে হাতিয়ার সঙ্গে সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পুনরায় নৌ চলাচল শুরু হবে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সতর্ক সংকেত ও মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।