মুহুরী নদীতে গোসল করতে নেমে ডুবে মারা যাওয়া যুবক মো. সাকিব। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
ফেনীর মুহুরী নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়া যুবক মো. সাকিবের (২৪) মরদেহ ২০ ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হয়েছে।
পরশুরামের সীমান্তবর্তী ফুলগাজী উপজেলার মধ্যম শ্রীচন্দ্রপুর গ্রাম সংলগ্ন নদী অংশ থেকে রবিবার সকাল ১০টার দিকে তার ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পরশুরাম ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মুস্তাফিজুর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে পরশুরাম উপজেলার চিথলিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম অলকা জঙ্গলঘোনা গ্রামে মুহুরী নদীতে গোসল করার সময় তীব্র স্রোতে তলিয়ে যান তিনি।
নিহত মো. সাকিব কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার মোহাম্মদ আলী হোসেনের ছেলে। পরিবারের সঙ্গে তিনি চট্টগ্রাম শহরে ভাড়া বাসায় থাকতেন। শুক্রবার তিনি দক্ষিণ জঙ্গলঘোনায় তার নানা মরহুম সুরুজ মিয়ার বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার দুপুরে স্থানীয় দুই নারীর সঙ্গে বাড়ির পাশে মুহুরী নদীতে গোসল করতে নামেন সাকিব। নদীর পানিতে পরপর দুটি ডুব দেওয়ার পর সাকিব আর ওপরে ওঠেননি। মায়া নামের এক নারীর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে খোঁজাখুঁজি শুরু করে।
খবর পেয়ে পরশুরাম ফায়ার সার্ভিসের একটি উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক উদ্ধার কাজ শুরু করে। তবে নদীতে তীব্র স্রোত ও ভাঙন থাকায় উদ্ধার তৎপরতা ব্যাহত হয়। পরে বিশেষ ফায়ার সার্ভিসের একটি ডুবুরি দল চট্টগ্রাম থেকে এসে অভিযানে যোগ দেয়। তারা শনিবার রাত ৮টা পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়েও সাকিবের কোনো সন্ধান না পেয়ে সেদিনের মতো উদ্ধার কাজ স্থগিত ঘোষণা করে।
পরদিন সকাল ১০টার দিকে দুর্ঘটনাস্থল থেকে ভাটির দিকে ফুলগাজীর মধ্যম শ্রী চন্দ্রপুর গ্রামে মুহুরী নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে স্বজনরা এসে নিখোঁজ সাকিবের মরদেহ হিসেবে এটি শনাক্ত করেন।
পরশুরাম ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, “আজ দুপুরে মুহুরী নদীর ফুলগাজীর মধ্যম শ্রী চন্দ্রপুর গ্রাম থেকে স্থানীয়রা মরদেহটি উদ্ধার করে বলে নিহতের স্বজনরা আমাদের জানিয়েছেন”।