বন্যায় ডুবে যাওয়া জমি থেকে উত্তোলনকৃত অপরিপক্ক চীনাবাদাম শুকাচ্ছে তিস্তাপাড়ের কৃষকরা। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
চলতি বছরের জুন মাসজুড়ে টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে কুড়িগ্রামের প্রধান নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল প্লাবিত হয়।
বর্তমানে পানি কমতে শুরু করলেও বন্যার রেখে যাওয়া ক্ষতচিহ্ন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে কৃষিজমিতে।
চীনাবাদাম, পাট, মরিচ, পটল, বেগুন, ঢেঁড়স ও আমনের বীজতলাসহ নানা ফসল নষ্ট হওয়ায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন চরাঞ্চলের কৃষকরা।
তবে ক্ষয়ক্ষতির হিসাব করে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে কৃষি বিভাগ।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বন্যায় জেলার ৪৯৯ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে আমনের বীজতলা ৭১ হেক্টর, আউশ ধান ১৫০ হেক্টর, পাট ১৬৬ হেক্টর, শাক-সবজি ৮৭ হেক্টর, চীনা ৩ হেক্টর, মরিচ ২ হেক্টর এবং চিনাবাদাম ২০ হেক্টর।
তবে প্রায় ৩২ হাজার ৬৮০ হেক্টর জমির ফসল এখনও নিরাপদ রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, জেলার ১৬টি নদ-নদীর চার শতাধিক চরের এই ক্ষতির প্রভাব স্থানীয় বাজারেও পড়েছে। সবজির সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছে, ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অভিযোগ, বন্যার আগে কিংবা পানি বাড়ার সময় মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের কার্যকর উপস্থিতি ছিল না। আগাম সতর্কবার্তা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ পেলে ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই কমানো যেত।
সদর উপজেলার পাঁচগাছী ইউনিয়নের কদমতলার পটলচাষি আব্দুল আউয়াল বলেন, হঠাৎ পানি উঠে যাওয়ায় ক্ষেতের গাছ মরে যাচ্ছে, ফলে উৎপাদন খরচ তোলাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের তিস্তাপাড়ের কৃষক আলী হোসেন জানান, কয়েক দিন পানির নিচে থাকায় তার চিনাবাদামের অধিকাংশই নষ্ট হয়ে গেছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, মাঠপর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই চলছে। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।
সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি জমি পুনর্বাসন, বিকল্প ফসল আবাদ এবং আগামী মৌসুমের প্রস্তুতি বিষয়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।