আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের মাধ্যমে বাংলাদেশ এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
তিনি বলেন, “বর্তমান সরকার একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছে। এর সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবও যুক্ত হয়েছে। প্রথমে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে হবে, এরপর সম্ভাবনার ক্ষেত্রগুলোকে কাজে লাগানো হবে। সরকারের তৃতীয় ও চতুর্থ বছর থেকে অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন দৃশ্যমান হবে এবং বাংলাদেশ ধীরে ধীরে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাবে”।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার পর শনিবার সকালে প্রথমবার নিজ শহর চট্টগ্রামে পৌঁছে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের একটি গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ, ক্যাপিটাল মার্কেট বিনিয়োগ এবং ফান্ড ম্যানেজারদের বিনিয়োগ দেশে আসছে। এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। সরকারের লক্ষ্য দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো এবং আগামী দুই বছরের মধ্যে অর্থনৈতিক সক্ষমতায় আরও অগ্রগতি অর্জন করা”।
চট্টগ্রামে বিনিয়োগ ও শিল্পায়নের উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে মন্তব্য করে অর্থমন্ত্রী বলেন, “ভবিষ্যতে এ নগরী দেশের অর্থনীতির একটি প্রধান লজিস্টিক হাব হিসেবে গড়ে উঠবে। চলতি বাজেটে চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করে লজিস্টিক অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। পাশাপাশি আনোয়ারা এলাকায় প্রায় ৬০০ একর জমির ওপর একটি ফ্রি ট্রেড জোন প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে। চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করে একটি অর্থনৈতিক করিডোর এবং চীনা অর্থনৈতিক হাব গড়ে তোলার উদ্যোগ বাস্তবায়নের কথা জানান তিনি। একই সঙ্গে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে কার্গো ও লজিস্টিক হাব হিসেবে উন্নয়নের পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন”।
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী আরও বলেন, “গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রক্রিয়ার কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ছে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশ বৈশ্বিক বিনিয়োগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যে পরিণত হবে। ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের লাকসাম অংশের উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন হলে ট্রেনে যাতায়াতের সময় প্রায় দুই ঘণ্টা কমে আসবে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রামকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক করিডর একটি শক্তিশালী লজিস্টিক্যাল হাবে পরিণত হবে এবং দেশের বন্দরগুলো আরও কার্যকরভাবে পরিচালিত হতে পারবে”।
মাতারবাড়িকেও কেন্দ্র করে বড় ধরনের অর্থনৈতিক কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, “সব মিলিয়ে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও লজিস্টিক্যাল সম্ভাবনাকে বিবেচনায় রেখেই বাজেটে পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। দেশের অর্থনৈতিতে এত বড় বাজেট বাস্তবায়ন একটি বড় চ্যালেঞ্জ”।
এসময় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।