কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৪ ঘণ্টা আগে
শুকিয়ে গেছে কাপ্তাই হ্রদ। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
বর্তমানে বর্ষাকাল চললে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় দিন দিন শুকিয়ে যাচ্ছে রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদের পানি। হ্রদে পানি কম থাকায় নৌপথে চলাচলে পোহাতে হচ্ছে দুর্ভোগ। উৎপাদন কমেছে কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রেও।
কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের কন্ট্রোল রুমের তথ্য মতে, দেশের একমাত্র জল বিদ্যুৎকেন্দ্রটির পাঁচটি ইউনিট থেকে দৈনিক ২৪২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। বর্তমানে বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিটের মধ্যে চালু রয়েছে তিনটি ইউনিট। এ তিনটি ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে ৯৫ মেগাওয়াট। যার মধ্যে ১ নম্বর ইউনিট থেকে ৩৫ মেগাওয়াট, ২ নম্বর ইউনিট থেকে ৩০ মেগাওয়াট ও ৪ নম্বর ইউনিট থেকে ৩০ মেগাওয়াট। বর্তমানে কাপ্তাই হ্রদে পানি রয়েছে ৭৫ দশমিক ৮১ এমএসএল (মিনস সি লেভেল)। যদিও বছরের এ সময়ে হ্রদে পানি থাকার কথা ৮৪ দশমিক ১৬ এমএসএল।
কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর কমে যাওয়ায় জেলা সদরের সঙ্গে পাঁচটি উপজেলা বাঘাইছড়ি, লংগদু, বরকল, জুরাছড়ি ও বিলাইছড়ি উপজেলায় নৌ-যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে। যাত্রী নিয়ে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে না লঞ্চগুলো। ফলে যাতায়াতের খরচও বেড়েছে। এছাড়া হ্রদের মাঝে কিছু ডুবোচরে লঞ্চ ও ইঞ্জিন চালিত ট্রলার বোটগুলো আটকে গিয়ে ছোটোখাটো দুর্ঘটনাও ঘটছে।
রাঙামাটি লঞ্চমালিক সমিতির সভাপতি মঈনুদ্দীন সেলিম বলেন, “বাঘাইছড়ি উপজেলায় লঞ্চ চলাচল বন্ধ রয়েছে। অন্যান্য উপজেলাগুলোতে কোনো রকম অর্ধেক পর্যন্ত যেতে পারে। বৃষ্টিপাত না হলে হ্রদের পানি না বাড়লে লঞ্চ চলাচল করতে পারে না। প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমে নৌপথে যাতায়াতে পাঁচ উপজেলার মানুষের দুর্ভোগে পড়তে হয়। দ্রুত কাপ্তাই হ্রদটি খনন করা জরুরি হয়ে পড়েছে”।
কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক (তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী) মাহমুদ হাসান বলেন, “বিদ্যুৎ উৎপাদন হ্রাস-বৃদ্ধি সম্পূর্ণ হ্রদের পানির ওপর নির্ভর করে। হ্রদে পানি বাড়লে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ে আর পানি কমে গেলে উৎপাদনও কমে। এপ্রিল মাস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। পানি সংকটে সবগুলো ইউনিট চালানো সম্ভব হচ্ছে না। আমাদের আপাতত দুটি ইউনিট বন্ধ রয়েছে। তিনটি ইউনিট চালু রয়েছে। যদি ভারী বৃষ্টিপাত না হলে সচল ইউনিটগুলোও বন্ধ হয়ে যাবে”।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) রাঙামাটির নির্বাহী প্রকৌশলী তয়ন কুমার ত্রিপুরা বলেন, “কাপ্তাই হ্রদ খননের দাবি এই এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের। ইতিমধ্যে নদীপথ খননে ৬৮৭ কোটি ৩৯ লাখ টাকার একটি প্রকল্প নিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। আশা করছি, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর -অক্টোবরের দিকে কাজ শুরু করতে পারব। প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে মানুষের দুর্ভোগ কিছুটা হলেও কমবে”।