‘আলোকিত লালমনিরহাট’-এর আয়োজনে জেলা পরিষদ মিলনায়তনে শুক্রবার রাতে যৌতুকবিহীন বিয়ে সম্পন্ন করা হয়। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
সামাজিক ব্যাধি নির্মূল ও একটি আদর্শ সমাজ বিনির্মাণের প্রত্যয় নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ কর্মসূচি। এই উদ্যোগের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে জেলাটিতে সম্পূর্ণ যৌতুকবিহীনভাবে সাতজোড়া তরুণ-তরুণীর জমকালো বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।
‘আলোকিত লালমনিরহাট’-এর আয়োজনে জেলা পরিষদ মিলনায়তনে উৎসবমুখর পরিবেশে শুক্রবার রাতে এই বিয়ে সম্পন্ন হয়। ব্যতিক্রমী ও মানবিক এই বিয়ে দেখতে মিলনায়তনে উৎসবপ্রবণ মানুষের ঢল নামে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী এবং ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ কমিটির প্রধান উপদেষ্টা অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু।
মন্ত্রী বলেন, “যৌতুক আমাদের সমাজের অন্যতম বড় সামাজিক ব্যাধি। এর কারণে নারী নির্যাতন, পারিবারিক কলহ ও নানা সামাজিক সংকট তৈরি হয়। যৌতুকমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসতে হবে। আলোকিত লালমনিরহাটের এই আয়োজন শুধু সাতটি বিয়ে নয়, এটি সমাজ পরিবর্তনের একটি শক্তিশালী বার্তা”।
তিনি আরও বলেন, “যখন একটি পরিবার যৌতুকমুক্ত হয়, তখন সম্পর্কের ভিত্তি হয় ভালোবাসা, সম্মান ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ। লালমনিরহাট থেকে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ দেশের অন্যান্য জেলাতেও ছড়িয়ে পড়ুক-এটাই আমাদের প্রত্যাশা”।
নবদম্পতি আলমগীর হোসেন বলেন, “যৌতুক ছাড়া বিয়ে করতে পেরে আমি গর্বিত। আমরা চাই সমাজ থেকে এই কুপ্রথা চিরতরে বিদায় নিক। ভালোবাসা, সম্মান ও পারস্পরিক বিশ্বাসের ভিত্তিতেই একটি সুন্দর সংসার গড়ে ওঠে”।
তার স্ত্রী তামান্না খাতুন বলেন, “আমার বাবা-মাকে বিয়ের জন্য কোনো অর্থ ব্যয় করতে হয়নি। এত সুন্দর ও সম্মানজনক পরিবেশে আমার বিয়ে হবে, তা কখনো কল্পনাও করিনি। এই দিনটি আমার জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে থাকবে”।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. রাশেদুল হক প্রধান, জেলা পরিষদের প্রশাসক এ কে এম মমিনুল হক, পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামানসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ অনেকে।
উপস্থিত বিশেষ অতিথিরা বলেন, “যৌতুকবিহীন গণবিবাহ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের বার্তা বহন করে। এ ধরনের উদ্যোগ নিয়মিত আয়োজন করা হলে যৌতুকের মতো কুপ্রথা নির্মূলে জনসচেতনতা বাড়বে এবং মানবিক, বৈষম্যহীন ও সহমর্মিতাপূর্ণ সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে”।
রংপুর অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী বিয়ের গীত, নবদম্পতিদের শুভেচ্ছা, অতিথিদের আপ্যায়ন এবং আনন্দঘন আয়োজনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় ব্যতিক্রমী এই গণবিবাহ। তবে শেষ হলেও থেকে যায় একটি শক্তিশালী বার্তা- যৌতুক নয়, ভালোবাসা ও পারস্পরিক সম্মানই হোক প্রতিটি বৈবাহিক সম্পর্কের ভিত্তি।