সাভার প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩ ঘণ্টা আগে
আর্জেন্টিনা সমর্থক নাহিদ হাসানকে হত্যার পর বালুচাপা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি পরিবারের। ফাইল ছবি
ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় ফুটবল খেলা নিয়ে বিরোধের জেরে নাহিদ হাসান (১৫) নামে এক আর্জেন্টিনা সমর্থককে হত্যার পর বালুচাপার ঘটনায় নতুন মোড় নিয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় আটক ব্রাজিল সমর্থক কিশোর প্রথমে জানিয়েছিল সে হত্যার পর মরদেহ বালুচাপা দিয়েছে। কিন্তু ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে কোনো মরদেহ পাওয়া যায়নি। পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদে ওই কিশোর জানিয়েছে, ‘মারধরের ভয়ে সে মিথ্যা মরদেহ গুমের গল্প বলেছিল’।
এর আগে গত ২৯ জুন রাত আনুমানিক ১২টার দিকে আশুলিয়ার সাধুপাড়া এলাকার গরুর হাটের বালুচরে নাহিদকে হত্যা করা হয় বলে দাবি পরিবারের।
নিহত নাহিদ হাসান লালমনিরহাটের বড়বাড়ী পঞ্চগ্রামের মোস্তাকের ছেলে। সে বাবার সাথে আশুলিয়ার সাধুপাড়ায় বেড়াতে এসেছিল।
নিহতের পরিবার জানায়, ব্রাজিল বনাম জাপানের মধ্যকার ফুটবল খেলা নিয়ে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে আর্জেন্টিনা সমর্থক নাহিদকে কৌশলে ডেকে নিয়ে যায় ব্রাজিল সমর্থক হামজা, রাকিব, মেহেদী ও সিয়াম। এরপর থেকে নাহিদ নিখোঁজ ছিল।
পরিবারের দাবি, অভিযুক্তরা নাহিদকে ছুরিকাঘাতে হত্যা শেষে মরদেহ আশুলিয়ার বালুচরে বালুর নিচে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়।
নিহতের বাবা মোস্তাক বলেন, “আমার ছেলেকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি আমার ছেলের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
এ ঘটনায় বুধবার রাতে অভিযুক্ত হামজাকে ধরে আশুলিয়া থানায় হাজির করেন নিহতের স্বজনরা। জিজ্ঞাসাবাদে কয়েকজন মিলে নাহিদকে মারধর করে বালির নিচে চাপা দিয়ে রেখেছে বলে স্বীকার করে ওই কিশোর।
পুলিশ জানায়, বুধবার মধ্যরাতে আশুলিয়া থানা পুলিশ আটককৃত কিশোর ও নিহতের পরিবারের কথামতো নির্দিষ্ট স্থানে গিয়ে ব্যাপক খোঁজাখুঁজি ও বালু খুঁড়ে তল্লাশি চালায়। তবে দীর্ঘ সময় অনুসন্ধানের পরও কোনো মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে পুলিশ ওই কিশোরকে পুনরায় নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করলে চাঞ্চল্যকর মোড় নেয় ঘটনাটি।
এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, “নিখোঁজ কিশোরের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তবে আটক কিশোরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মধ্যরাতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অনেক খোঁজাখুঁজি করলেও কোনো মরদেহ বা হত্যাকাণ্ডের সত্যতা পায়নি।”
তিনি বলেন, “আটক ওই কিশোরের বয়স আনুমানিক ১৩ থেকে সাড়ে ১৩ বছর। সে একেক সময় একেক কথা বলছে। তার বক্তব্যের স্থিরতা নেই। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে জানায়, পরিবারের লোকজন তাকে মারধর করায় সে ভয় পেয়ে এই মিথ্যা তথ্য দিয়েছিল।”
নিখোঁজ কিশোরের সন্ধান এবং ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।