মৌলভীবাজার প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে
মৌলভীবাজারে চাঞ্চল্যকর ও ক্লুলেস হত্যা মামলার ৫ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে সদর মডেল থানা পুলিশ। প্রবা ফটো
মৌলভীবাজারে চাঞ্চল্যকর ও ক্লুলেস আব্দুল মতিন (৫৮) হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে সদর মডেল থানা পুলিশ।
জমিজমা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে আপন ভাইকে
অপহরণ করে হত্যা করার ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী আব্দুল মজিদসহ ৫ জনকে গ্রেপ্তার করে
বুধবার (১ জুলাই) মৌলভীবাজর আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেনÑ নিহত আব্দুল মতিনের আপন ভাই আব্দুল
মজিদ, আব্দুল আজিদ, আব্দুল রুফ, বোন আয়েশা আক্তার রত্না এবং আব্দুল মজিদের স্ত্রী তুলি
বেগম।
চাঞ্চল্যকর ঘটনার বিবরণে জানা যায়, নিহত আব্দুল মতিনের সঙ্গে তার ভাই-বোনদের দীর্ঘদিন
ধরে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ ও মামলা-মোকদ্দমা চলমান ছিল। এই বিরোধের জের ধরে তার ভাই
আব্দুল মজিদ হত্যার পরিকল্পনা করে এবং পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য লোক নিয়োগ করে। গত
২৮ জুন আব্দুল মতিন মৌলভীবাজার আদালতে একটি মামলায় সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য যাবেন এ বিষয়টি
জানতে পেরে তার ভাই আব্দুল মজিদের নিয়োজিত ঘাতক দল তাকে অনুসরণ করতে থাকে। পরবর্তী
সময়ে সুযোগ বুঝে নির্জন স্থানে তাকে রাস্তা থেকে জোরপূর্বক একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে হাত-পা
বেঁধে হত্যা করে এবং মরদেহ জনৈক সুন্দর মিয়ার পুকুরের দক্ষিণ পাশ সংলগ্ন ঢালের পাকা
রাস্তার উপর ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
সন্ধ্যায় আব্দুল মতিন বাড়িতে ফিরে না আসায় তার স্ত্রী
লাকি আক্তার শেফা মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে ফোনটি বন্ধ পান। পরে তিনি স্বামীর
খোঁজে বের হলে সংবাদ পান যে, তাদের বাড়ির পূর্ব পাশে সুন্দর মিয়ার পুকুরের দক্ষিণ পাশ
সংলগ্ন ঢালে পাকা রাস্তার উপর হাত-পা বাঁধা এবং গলায় শার্ট প্যাঁচানো অবস্থায় একজনের
মরদেহ পড়ে আছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি তার স্বামী আব্দুল মতিনের মরদেহ শনাক্ত করেন। মরদেহের
মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল।
খবর পেয়ে মৌলভীবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ রাত আনুমানিক পৌনে ১২টার দিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত
হয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের
সৃষ্টি করে।
পরবর্তী সময়ে পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলামের নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম)
নোবেল চাকমার তত্ত্বাবধানে এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আবুল খয়েরের নেতৃত্বে
সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলামসহ থানার একটি বিশেষ টিম ঘটনার তদন্ত
শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় মঙ্গলবার (৩০ জুন) মৌলভীবাজার
সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে ৫ জনকে গ্রেপ্তার করে বুধবার (১ জুলাই) মৌলভীবাজর
আদালতে সোপর্দ করা হয়।
মৌলভীবাজার সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো.
সাইফুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু করা হয়েছে। ইতোমধ্যে মূল
পরিকল্পনাকারিসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার ঘটনায় জড়িত অপর আসামিদের
গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।