মাগুরা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে
অভিযুক্ত সাবেক অধ্যক্ষ শ্যামল কুমার বিশ্বাস। ছবি: সংগৃহীত
মাগুরা আদর্শ কলেজে প্রায় দেড় কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে সরিয়ে দেওয়া অধ্যক্ষ শ্যামল কুমার বিশ্বাসকে পুনর্বহালের চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, অনিয়মের প্রমাণ মিললেও তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, উল্টো অপসারণের আট মাস পরও তার বেতন-ভাতা চালু রাখা হয়েছে।
কলেজ সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই শিক্ষার্থীদের বেতন, পরীক্ষার ফি, উন্নয়ন তহবিল, কলেজ মার্কেটের আয়সহ বিভিন্ন খাতের অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়ে শ্যামল কুমার বিশ্বাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। পরে সহকারী অধ্যাপক মো. কবিরুল বাশারকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের একটি নিরীক্ষা কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি ২০২২, ২০২৩ ও ২০২৪ সালের আর্থিক লেনদেন পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন দাখিল করে।
নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই তিন বছরে কলেজের বিভিন্ন খাত থেকে আদায়কৃত ২ কোটি ১৫ লাখ ১৫ হাজার ১০৯ টাকা রূপালী ব্যাংক, মাগুরা শাখার তিনটি হিসাবে জমা হওয়ার কথা থাকলেও জমা হয়েছে মাত্র ১ কোটি ১৬ লাখ ২০ হাজার ৮৭৯ টাকা। ফলে ৯৯ লাখ ১৪ হাজার ২৩০ টাকা ব্যাংকে জমা হয়নি। এছাড়া বিভিন্ন খাতে ব্যয় দেখানো ৮১ লাখ ১ হাজার ৯২৯ টাকার কোনো বিল-ভাউচার নিরীক্ষা কমিটির কাছে উপস্থাপন করা হয়নি। একই সঙ্গে কলেজ মার্কেটের আয়ের হিসাব থেকে কোনো চাহিদাপত্র ছাড়াই ৫ লাখ ৮৭ হাজার ৭০০ টাকা উত্তোলনের তথ্যও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় দেড় কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে নিরীক্ষা কমিটি।
কলেজের একটি সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শ্যামল কুমার বিশ্বাসকে অধ্যক্ষের দায়িত্ব থেকে অপসারণ করা হয়। এরপর ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি নিরীক্ষা প্রতিবেদন জমা দেওয়া হলেও তা দীর্ঘ সময় প্রকাশ করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে বিষয়টি জানাজানি হলেও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো প্রশাসনিক বা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং তাকে পুনর্বহালের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে কলেজজুড়ে আলোচনা চলছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কলেজের এক শিক্ষক বলেন, “তদন্তে আর্থিক অনিয়মের তথ্য উঠে আসার পরও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। তার পুনর্বহালের চেষ্টার বিষয়টিও কলেজে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে”।
অভিযোগের বিষয়ে সাবেক অধ্যক্ষ শ্যামল কুমার বিশ্বাস প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, “নিরীক্ষা কমিটির প্রতিবেদন গ্রহণযোগ্য নয়, এটি সম্পূর্ণ মনগড়া। তার দাবি, সে সময় কলেজের পরিচালনা পর্ষদও প্রতিবেদনটি গ্রহণ করেনি। তবে এ দাবির পক্ষে তিনি কোনো লিখিত নথি দেখাতে পারেননি”। পুনর্বহালের বিষয়ে তিনি বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধান অনুযায়ী পুনর্বহালের সুযোগ পাওয়ার অধিকার রাখেন।
নিরীক্ষা কমিটির আহ্বায়ক সহকারী অধ্যাপক মো. কবিরুল বাশার বলেন, “নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে আর্থিক অনিয়মের সুস্পষ্ট তথ্য পাওয়া গেছে। এরপরও কেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, সেটি কলেজ প্রশাসনই ব্যাখ্যা করতে পারবে”।
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ গোলাম কাবিয়ার বলেন, “তদন্তে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলেও অভিযুক্তকে এখনো চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়নি। এমনকি তার বেতন-ভাতা বন্ধেরও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলে নিয়ম অনুযায়ী তার নামে এখনো বেতন-ভাতা উত্তোলন হচ্ছে”।