চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১ ঘণ্টা আগে
ব্রহ্মপুত্র নদ ভাঙন কবলিত এলাকা। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে ব্রহ্মপুত্র নদে বিলীন হয়ে গেছে প্রায় ৫০ টি পরিবার বসতভিটা। নদের গর্ভে চলে গেছে কয়েক শ বিঘা আবাদি জমি, ফলের বাগান ও বিদ্যুতের খুঁটি। চোখের সামনে বসতবাড়ি ভেঙে যেতে দেখছেন কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার চরাঞ্চলের মানুষ। নদের তীব্র ভাঙনে আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে তীরবর্তী মানুষ।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বুধবার নদ ভাঙ্গনে কবলিত ৫০টি পরিবারের মাঝে চিড়া, গুড়সহ বিভিন্ন শুকনা খাবারের প্যাকেজ বিতরন করা হয়েছে। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহামুদুল হাসান উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলার চিলমারী ইউনিয়নের কয়েকটি স্থানে গত তিন দিন ধরে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। এতে বিশারপাড়া আশ্রয়ণ এলাকায় সোমবার ভোরবেলা ৩০ মিনিটে ২৫ বাড়িসহ গত তিন দিনে অন্তত ৫০টি পরিবার বাড়িঘর হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে। এ ছাড়াও বৈদ্যুতিক লাইনের ছয়টি খুঁটি এবং শত শত একর আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ভাঙনের মুখে রয়েছে মনুলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঢুষমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কড়াইবরিশাল নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কড়াইবরিশাল বাজার, চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, ইউনিয়ন ভূমি অফিস,নির্মাণাধীন বন্যা আশ্রয়কেন্দ্রসহ নানা স্থাপনা।
চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, “গত দুই বছরে ইউনিয়নের প্রায় ৬৫০টি পরিবারের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বর্তমানে যে হারে ভাঙন চলছে, তাতে দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে ইউনিয়নের বড় একটি অংশ, সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আশ্রয়কেন্দ্র ও কড়াইবরিশাল বাজার নদীতে চলে যাবে। ইতিমধ্যে শত শত একর আবাদি জমিও বিলীন হয়েছে”।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, “ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। ভাঙ্গনকবলিত পরিবার গুলোকে অন্যত্র পূর্ণবাসনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে”।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, “চরাঞ্চলের এত দীর্ঘ ভাঙন নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। ভাঙন প্রতিরোধে প্রাথমিকভাবে মাত্র ১ হাজার ৫০০টি জিও বস্তা দেওয়া হয়েছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় অতি নগণ্য। তাই ভাঙনের মুখে থাকা স্থাপনাগুলো সরিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে”।