কুড়িগ্রাম প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে
আপডেট : ১ ঘণ্টা আগে
কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক কার্যালয়। ছবি: সংগৃহীত
কুড়িগ্রামে ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে না পারায় এক নারী সদস্যকে গভীর রাত পর্যন্ত এনজিও কার্যালয়ে আটকে রেখে টাকা আদায়ের চাপ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইএসডিওর এক এরিয়া ম্যানেজার ও মাঠকর্মীর বিরুদ্ধে। তবে এনজিও কর্তৃপক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করলেও ঘটনাটিকে অমানবিক উল্লেখ করে তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন জেলা প্রশাসক।
কুড়িগ্রাম শহরতলির গড়েরপাড় গ্রামের এক নারী সদস্য ইএসডিও থেকে ৪ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। তিনি নিয়মিত মাসিক কিস্তি পরিশোধ করলেও পারিবারিক সংকটের কারণে জুন মাসের ২০ হাজার টাকার কিস্তি নির্ধারিত সময়ে পরিশোধ করতে পারেননি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে কিস্তির টাকা আদায়ের জন্য ওই নারীর বাড়িতে যান ইএসডিওর মাঠকর্মী মাসুদ রানা। দিনভর চেষ্টা করেও টাকা আদায় করতে না পেরে বিষয়টি এরিয়া ম্যানেজার নরেশ চন্দ্র রায়কে জানান। পরে ম্যানেজারের নির্দেশে রাত ১০টার পর ওই নারীকে এনজিও কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে রাত ১টা পর্যন্ত তাকে বসিয়ে রেখে কিস্তির টাকা পরিশোধের জন্য চাপ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভুক্তভোগী নারী বলেন, পারিবারিক সমস্যার কারণে তিনি চলতি মাসের (জুন) কিস্তি আগামী মাসে (জুলাই) পরিশোধের অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু তা না মেনে তাকে অফিসে নিয়ে গিয়ে গভীর রাত পর্যন্ত বসিয়ে রাখা হয়।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাওয়া স্থানীয় বাসিন্দা জুয়েল মিয়া জানান, বিষয়টি জানার পর তিনি তাকে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করলে এরিয়া ম্যানেজার নরেশ চন্দ্র রায় ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, ‘এনজিও কর্মীদের কাছে রাত-বিরাত বলে কিছু নেই। ভোর ৪টা হলেও টাকা আদায় করেই ছাড়ব।’ পরে স্থানীয় সাংবাদিকদের সহযোগিতায় ওই নারীকে কার্যালয় থেকে বের করে আনা সম্ভব হয়।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ইএসডিওর মাঠকর্মী মাসুদ রানার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইএসডিওর এরিয়া ম্যানেজার নরেশ চন্দ্র রায় বলেন, ওই নারীকে আটকে রাখা হয়নি। তিনি স্বেচ্ছায় অফিসে এসেছিলেন। তাকে জোর করে আনা বা আটকে রাখার অভিযোগ সঠিক নয়।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, ওই নারীর সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে, তা খুবই অমানবিক। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।