পলাশ ইসলাম, ধনবাড়ী (টাঙ্গাইল)
প্রকাশ : ৩ ঘণ্টা আগে
আপডেট : ৩ ঘণ্টা আগে
ধনবাড়ীর যদুনাথপুর ইউনিয়নের নেটামশরা গ্রামের ছয় সন্তানের জননী বৃদ্ধা চম্পা বেগম। প্রবা ফটো
জীবনের শেষ বয়সে সন্তানের স্নেহ-ভালোবাসা আর নিরাপদ আশ্রয়ের প্রত্যাশা থাকলেও সেই আশ্রয়ই হারিয়েছেন মোছা. চম্পা বেগম (৮০)। টাঙ্গাইল ধনবাড়ীর যদুনাথপুর ইউনিয়নের নেটামশরা গ্রামের ছয় সন্তানের জননী এই বৃদ্ধার অভিযোগÑ ছেলেরা তাকে নিয়মিত ভরণপোষণ দেন না।
এমনকি বসবাসের ঘরটিও ভেঙে দিয়ে তাকে বাড়ি ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৪ বছর আগে স্বামী ইউনুছ আলীর মৃত্যুর পর থেকেই পরিবারে বিরোধ শুরু হয়। বয়সের ভারে চলাফেরায় অক্ষম চম্পা বেগমের দাবি, তার তিন ছেলেÑ আব্দুল কাদের, আব্দুল আজিজ ও ইব্রাহিম। দীর্ঘদিন ধরে তার ভরণপোষণ দেয় না, থাকার ঘরটিও ভেঙে ফেলেছেন।
তিনি জানান, প্রথমে বড় ছেলে আব্দুল কাদেরের জায়গায় একটি ঘরে থাকতেন। একপর্যায়ে নাতি পারভেজের লাঠির আঘাতে আহত হওয়ার পর ছোট ছেলে ইব্রাহিম ও নাতি সেলিম তার ঘরটি সরিয়ে দ্বিতীয় ছেলে আব্দুল আজিজের জায়গায় নির্মাণ করে দেন। কিন্তু ১০ দিন আগে আব্দুল আজিজ ঘরটি ভেঙে ফেলেন এবং তাকে সেখান থেকে চলে যেতে বাধ্য করেন। বর্তমানে তিনি বড় ছেলে চান মিয়ার বাড়িতে অবস্থান করছেন।
ঘটনার পর চম্পা বেগমের দুই মেয়ে ও তাদের স্বামীরা স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে একাধিকবার সালিশের উদ্যোগ নিলেও ছেলেরা সালিশে উপস্থিত না হওয়ায় সমাধান হয় না। পরে তিনি প্রশাসনের শরণাপন্ন হন।
সরেজমিন দেখা যায়, পরিবারের পক্ষ থেকে একটি পরিত্যক্ত নর্দমার পাশে বৃদ্ধার জন্য একটি জরাজীর্ণ ঘর নির্মাণ করা হয়েছে।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে চম্পা বেগম বলেন, স্বামী মরার পর থেকেই কষ্টে আছি। ছেলেরা ভরণপোষণ দেয় না, থাকার ঘরও ভেঙে দিয়েছে। এখন অন্যের বাড়িতে থাকতে হচ্ছে। আমি স্বামীর ভিটায় শেষ জীবনটা কাটাতে চাই।
অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল কাদের ও ইব্রাহিম বলেন, সব ভাই মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি বাবার কবরের পাশে মায়ের জন্য নতুন একটি ঘর নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি দুই বোনের প্রাপ্য জমিও নিয়ম অনুযায়ী বুঝিয়ে দেওয়া হবে। তবে আরেক ছেলে আব্দুল আজিজ কোনো বক্তব্য না দিয়েই সটকে পড়েন।
স্থানীয়দের দাবি, মৃত ইউনুছ আলীর নামে প্রায় ৩৬ শতাংশ জমি থাকলেও এখনও তা উত্তরাধিকারীদের নামে বণ্টন হয়নি। আইনানুযায়ী চম্পা বেগম ও তার দুই মেয়েরও ওই সম্পত্তিতে অধিকার রয়েছে। জমি থাকা সত্ত্বেও বৃদ্ধা যেন পরবাসী।
এ বিষয়ে ধনবাড়ী থানার এসআই মো. আরিফুল হাসান বলেন, অভিযোগ পেয়েছি, বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।