আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩ ঘণ্টা আগে
আপডেট : ২ ঘণ্টা আগে
বগুড়ার আদমদীঘিতে নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করায় শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রবা ফটো
বগুড়ার আদমদীঘিতে নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে একান্তে দেখা করতে বলাসহ বিভিন্ন ধরনের অনৈতিক বার্তা পাঠানোর অভিযোগে মাহমুদুল হাসান (৩৮) নামের এক মাদরাসা শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাকে বগুড়া জেল হাজতে
পাঠানো হয়েছে। এর আগে সকালে ভুক্তভোগী ছাত্রীর মা আদমদীঘি থানায় ওই
শিক্ষকের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করেন।
পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত শিক্ষক মাহমুদুল হাসান আদমদীঘি উপজেলার নশরতপুর ইউপির
ধামাইল ঘোড়াদহ সিদ্দিকীয়া দাখিল মাদরাসার সহকারী মৌলভী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
ওই মাদরাসায় নবম শ্রেণিতে পড়ে ওই ছাত্রী। শিক্ষক মাহমুদুল বেশ কিছুদিন ধরে
ওই ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন। এতে বিরক্ত হয়ে ওই ছাত্রী বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের
জানালে বিষয়টি পুরো গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে।
মঙ্গলবার দুপুরের দিকে শিক্ষক মাহমুদুল হাসান মাদরাসায় গেলে ছাত্রীর স্বজন ও স্থানীয়রা
তার কাছে মোবাইল ফোনে বার্তা পাঠানোর বিষয়ে জানতে চান। এ সময় তিনি অভিযোগ অস্বীকার
করেন। এতে এলাকাবাসী বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। বিকেল ৪টার দিকে বিপুলসংখ্যক গ্রামবাসী মাদরাসায়
সমবেত হয়ে শিক্ষক মাহমুদুল হাসানকে অবরুদ্ধ করেন। খবর পেয়ে আদমদীঘি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে
এসে শিক্ষককে উদ্ধার করে। এ সময় উত্তেজিত জনগণ পুলিশের উপস্থিতিতেই তাকে গণপিটুনি
দেয়। পুলিশ জনতার রোষ থেকে শিক্ষককে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।এ বিষয়ে জানতে
চাইলে মাদরাসার সুপার মওলানা রহমতুল্লাহ বলেন, শিক্ষক মাহমুদুল হাসানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
নেওয়ার আগেই এ অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। পরবর্তী সময়ে ম্যানেজিং কমিটির মিটিং করে তার
বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুমা বেগম বলেন, বিষয়টি শুনেছি।
ওই শিক্ষকের ব্যাপারে পরবর্তীতে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
আদমদীঘি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামান মিয়া জানান, এ ব্যাপারে ছাত্রীর মা বুধবার সকালে শিক্ষকের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করলে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। অভিযুক্তের মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। দুপুরে শিক্ষক মাহমুদুল হাসানকে আদালতের মাধ্যমে বগুড়া জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।