সাতক্ষীরা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১ ঘণ্টা আগে
সাতক্ষীরা জেলা যুবদলের সাবেক প্রধান সমন্বয়ক আইনুল ইসলাম নান্টা মঙ্গলবার রাতে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সোহানকে আর্থিক সহায়তা ও উপহারসামগ্রী তুলে দেন। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার চান্দুড়িয়া গ্রামের কলেজছাত্র সোহানের মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করে তার পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
অন্ধ একটি ঘোড়াকে আশ্রয় দিয়ে লালন-পালনের দায়িত্ব নেওয়া এই শিক্ষার্থীর জন্য আর্থিক সহায়তা পাঠিয়েছেন তিনি।
সাতক্ষীরা জেলা যুবদলের সাবেক প্রধান সমন্বয়ক আইনুল ইসলাম নান্টা মঙ্গলবার রাতে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সোহানকে আর্থিক সহায়তা ও উপহারসামগ্রী তুলে দেন।
এ সময় জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুলের নির্দেশনায় বিষয়টি খোঁজ নেওয়া হয় বলেও জানা গেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘোড়াটির অসহায় অবস্থার দেখে স্থির থাকতে পারেননি কলেজছাত্র সোহান।
কোনো দ্বিধা না করে ছুটে যান ঘটনাস্থলে। শ্মশানের রাস্তার পাশ থেকে মৃত্যুপথযাত্রী ঘোড়াটিকে উদ্ধার করে নিয়ে আসেন নিজের বাড়িতে।
শুরুতে পরিবারের কিছুটা আপত্তি থাকলেও ছেলের মানবিকতার কাছে হার মানেন মা-বাবা।
তাদের ছোট্ট উঠানই হয়ে ওঠে অসহায় প্রাণীটির নতুন আশ্রয়।
সোহান উপজেলার চন্দনপুর ইউনিয়নের চান্দুড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা নাঈম হোসেনের ছেলে। দুই ভাইয়ের মধ্যে সোহান বড়।
তিনি চন্দনপুর ইউনাইটেড ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়াশোনা করছেন।
ঘোড়াটিকে বাড়িতে আনার পর স্থানীয় পশু চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন সোহান।
চিকিৎসক পরীক্ষা করে জানান, প্রাণীটির দুটি চোখই স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে গেছে। আধুনিক চিকিৎসার মাধ্যমেও তার দৃষ্টিশক্তি আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়।
চিকিৎসকের এমন হতাশাজনক কথাও সোহানকে দমাতে পারেনি। বরং আরও দৃঢ় হয়েছে তার সিদ্ধান্ত—এই অবলা প্রাণীটিকে আর কখনও রাস্তায় ফেলে রাখা হবে না।
প্রতিদিন নিজের হাতে কাঁচা ঘাস, খৈল, ভুসি, খাওয়ানো, পানি পান করানো, পরিচর্যা করা এখন সোহানের নিয়মিত কাজ।
পরিবারের সদস্যরাও এখন সমানভাবে প্রাণীটির যত্ন নিচ্ছেন।
সোহান বলেন, এক বছর আগে বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে গিয়ে দেখতে পায়। ও হয়তো কোনো দিন দেখতে পাবে না, কিন্তু ভালোবাসা অনুভব করতে পারে।
একটা প্রাণকে চোখের সামনে কষ্টে মরতে দিতে পারিনি। যতদিন বেঁচে থাকবে, নিজের পরিবারের সদস্যের মতোই ওর যত্ন নেব বলেন সোহান।
তবে তিনি কলেজছাত্র হওয়ায় সমাজের বিত্তবানর পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান করেছেন।
তিনি আরও বলেন, প্রথমে আমার বন্ধুরা অনেক হাসি তামাসা করেছে। কিন্তু তারা এখন বলে তুই একটা ভালো কাজ করেছিস।
ছেলের এই উদ্যোগে গর্বিত বাবা নাইম হোসেন।
তিনি বলেন, প্রথমে কিছুটা দ্বিধা ছিল। কিন্তু ছেলের আন্তরিকতা দেখে আর না করতে পারিনি। মানুষ হিসেবে শুধু মানুষের নয়, অসহায় প্রাণীর প্রতিও আমাদের দায়িত্ব আছে।
স্থানীয়দের মতে, বর্তমান সময়ে যেখানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহানুভূতি প্রকাশের প্রবণতা বেড়েছে, সেখানে বাস্তবে এগিয়ে এসে একটি অসহায় প্রাণীর জীবন বাঁচানোর উদ্যোগ সত্যিই বিরল ঘটনা। সোহান দেখিয়ে দিয়েছেন মানবতা শুধু মানুষের জন্য নয়, পৃথিবীর প্রতিটি প্রাণের জন্য প্রযোজ্য, বলেন তারা।
স্বার্থ আর ব্যস্ততার এই সময়ে সোহানের গল্প যেন মনে করিয়ে দেয়, পৃথিবী এখনও সুন্দর আছে কিছু মানুষের নিঃস্বার্থ ভালোবাসার কারণে।
অন্ধ ঘোড়াটি আর কোনো দিন আলো দেখতে পারবে না, কিন্তু সোহানের মানবিকতার আলোয় সে খুঁজে পেয়েছে বেঁচে থাকার নতুন ঠিকানা।