কুড়িগ্রাম
কুড়িগ্রাম প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১ ঘণ্টা আগে
দুধকুমর নদের ভাঙনে বিলীনের পথে ভূরুঙ্গামারী উপজেলার আন্ধারীঝাড় ইউনিয়নের ধাউড়ারকুটি গ্রাম। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
কুড়িগ্রামের নদ-নদীর পানি কমে জেলার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। তবে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ৩৬টি পয়েন্টে দেখা দিয়েছে তীব্র নদী ভাঙন। বসতভিটা, ফসলি জমি হারিয়ে প্রতিদিন নিঃস্ব হচ্ছে অনেক পরিবার।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ধরলা নদীর কুড়িগ্রাম সেতু পয়েন্টে পানির স্তর বিপৎসীমার ৭৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। দুধকুমার নদীর পাটেশ্বরী পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ২৭ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে। ব্রহ্মপুত্র নদের চিলমারী পয়েন্টে পানির স্তর বিপৎসীমার ৭৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি নেমে যাওয়া অব্যহত রয়েছে।
জেলার প্রধান নদ-নদী ধরলা, দুধকুমর, তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্রের পানি কমার সাথে সাথে দেখা দিয়েছে তীব্র নদী ভাঙন। বিশেষ করে ভূরুঙ্গামারী উপজেলার আন্ধারীঝাড় ইউনিয়নের ধাউরারকুটি, পাইকের ছড়া ইউনিয়নের পাইকডাঙ্গা, নাগেশ্বরী উপজেলার বামনডাঙ্গা, চিলমারীর কড়াই বরিশাল, রাজারহাট উপজেলার রামহরি এবং সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের বানিয়াপাড়া ও সরকারপাড়ায় ব্যাপক নদী ভাঙন চলছে।
আন্ধারীঝাড় ইউনিয়নের ধাউড়ারকুটি গ্রামের ফারুক হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “দফায় দফায় পাউবো কর্তৃপক্ষের কাছে ভাঙন প্রতিরোধে জিও ফেলার আবেদন করেছি কিন্তু সেই কথা তাদের কানে পৌঁছে নাই। গত ৫ দিনে এই গ্রামের অন্তত ৩৫টি বাড়ি-ঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এখন আমরা সর্বস্ব হারিয়ে ভূমিহীনের তালিকায় নাম লিখিয়েছি। খাতায়-কলমে ভাঙন প্রতিরোধের গল্প শোনায় পাউবো।”
সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের সরকারপাড়া গ্রামের আইয়ুব আলী বলেন, “৬ মাস থেকে ভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে আবেদন করেছি, মানববন্ধন করেছি কোনও কাজ হয়নি। এমপি, স্থানীয় প্রতিনিধি ও সরকারের লোকজন আসে কিন্তু আমাদের কাজ আর হয় না। তাদের উদাসীনতায় আজ সরকারপাড়া ও বানিয়াপাড়ার প্রায় ৩ শতাধিক পরিবার নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। এক সরকার দুঃশাসন ও লুটপাট করে পালিয়েছে। আরেক সরকার এসে দুর্নীতিবাজদের দমনে হিমশিম খাচ্ছে। প্রতিটি সরকার ক্ষমতায় আসে আর তাদের নেতা-কর্মীরা লুটপাট শুরু করে। আমরা নদী ভাঙন থেকে রক্ষা পেতে চাই।”
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, জেলার বিভিন্ন উপজেলার নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলে ইতোমধ্যে ৪৯৯ হেক্টর জমির পাট, চীনাবাদাম, আউশ, আমন বীজতলা ও মরিচের ক্ষেত বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে। এতে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান বলেন, “উজানে ভারী বৃষ্টিপাত এবং পাহাড়ি ঢলের কারণে জেলার নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ভাঙন মোকাবিলায় অতিরিক্ত জিও ব্যাগ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
এ ব্যাপারে কথা হলে কুড়িগ্রাম জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা বেনজির আহমেদ বলেন, “বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় ২৮৫ টন জিআর চাল, ১ লাখ ৬২ হাজার নগদ টাকা এবং ৮০০ প্যাকেট শুকনো খাবার উপজেলাগুলোতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।