দীর্ঘ ৪১ ঘণ্টার অপেক্ষার সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত মা জাকিয়া আক্তার ও তার বড় মেয়ে ওয়াহিদা আক্তার জুহাকে সোমবার বিকালে দাফন করা হয়। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
দীর্ঘ ৪১ ঘণ্টার অপেক্ষার অবসান হলো। তবে সেই অপেক্ষার শেষে ছিল না কোনো পুনর্মিলন, ছিল প্রিয়জনদের শেষ বিদায়ের চিরস্থায়ী বেদনা। দুই প্রবাসী স্বামী দেশে ফেরার পর, স্বজনদের কান্না আর আহাজারির মধ্য দিয়ে ফেনীর ফুলগাজীতে পাশাপাশি কবরে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত মা জাকিয়া আক্তার (৩৮) ও তার বড় মেয়ে ওয়াহিদা আক্তার জুহা (২০)।
ফুলগাজী উপজেলার উত্তর আনন্দপুর ঈদগাহ মাঠে সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে জানাজা শেষে তাদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। প্রবাসী স্বজনদের শেষ দেখার সুবিধার্থে প্রায় ৪১ ঘণ্টা ধরে লাশবাহী ফ্রিজিং ভ্যানে সংরক্ষণ করা হয়েছিল মা-মেয়ের মরদেহ।
সরেজমিনে জানা যায়, সোমবার বেলা ১১টার দিকে ইতালি থেকে দেশে পৌঁছান জুহার স্বামী কাজী আজাদ হোসেন। এর আগে, রবিবার রাতে সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরেন নিহত জাকিয়া আক্তারের স্বামী নূরের সফা মজুমদার সোহেল।
বিকাল ৩টার দিকে ফ্রিজিং গাড়ি থেকে মরদেহ দুটি ঈদগাহ মাঠে নেওয়া হয়। সেখানে জানাজা শেষে মা ও মেয়েকে পাশাপাশি কবরে দাফন করা হয়।
গত শনিবার সকালে এক ক্যান্সার আক্রান্ত আত্মীয়কে দেখতে গিয়েছিলেন জাকিয়া আক্তার ও তার মেয়ে জুহা। রাতে বাড়ি ফেরার পথে ফেনী-বিলোনিয়া আঞ্চলিক সড়কের ফুলগাজী পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সামনে তাদের বহনকারী সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে ধাক্কা দেয় দ্রুতগামী এক পিকআপ। এ সময় গুরুতর আহত হন জাকিয়া-জুহাসহ আরও অটোরিকশার তিন যাত্রী।
তাদের উদ্ধার করে ফুলগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ফুলগাজী সদর ইউনিয়নের উত্তর দৌলতপুর গ্রামের মোহাম্মদ কাউসার (৩২) ও ওয়াহিদা আক্তার জুহাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় মা জাকিয়া আক্তারকে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনিও মারা যান।
নিহত জাকিয়ার বড় বোন দুবাই প্রবাসী মনোয়ারা বেগম মায়া জানান, তিনিও চার দিন আগে দেশে ফিরে বোনের সঙ্গে দেখা করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
এদিকে দুর্ঘটনায় নিহত কাউসারের বাবা আবুল কালাম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা পিকআপ চালককে আসামি করে ফুলগাজী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
ফুলগাজী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম মিজানুর রহমান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘাতক চালক ও গাড়িটি শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।