মহম্মদপুর (মাগুরা) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে
মানসিক ভারসাম্যহীন নারী খুরশিদা বেগম। প্রবা ফটো
মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে বসবাসরত এক মানসিক ভারসাম্যহীন নারীর এক লাখ টাকা রহস্যজনকভাবে উধাওয়ের বিষয়টি ফেসবুকের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
জানা গেছে, মহম্মদপুর উপজেলার খালিয়া গ্রামের বাসিন্দা সাবেক প্রয়াত সংসদ সদস্য আব্দুর রশিদের মেয়ে (মানসিক ভারসাম্যহীন) খুরশিদা বেগম দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা পরিষদের প্রবেশ গেটের ফাঁকা অংশে অবস্থান করছেন। তার দাবি, ওই অংশে একটি গেট (দরজা) নির্মাণের অনুরোধ জানিয়ে গত ১০ জুন এক লাখ টাকা নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে যান।
সে সময় ইউএনও কার্যালয়ে উপস্থিত না থাকায় কর্মকর্তা জাহাঙ্গীরের কক্ষে ওই নারী টাকার বান্ডিল জমা দেন। বিষয়টির সাক্ষ্য হিসেবে রাখতে কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর দুই সাংবাদিককে কক্ষে ডাকেন। সিদ্ধান্ত হয়, ইউএনও উপস্থিত হলে তার সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাংবাদিক তুষার আহমেদের অভিযোগ, পরে টাকার খবর জানতে চাইলে জাহাঙ্গীর জানান, তিনি প্রশাসনিক কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলামের কাছে দিয়েছেন। তৎক্ষণাৎ জাহিদুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে বলেন, ইউএনওর নির্দেশে তিনি ও এক ইউপি সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে টাকাটি ফিরিয়ে দিতে গেলেও মহিলা নেননি। এখন টাকার অবস্থান সম্পর্কে কেউ স্পষ্ট জবাব দিতে পারেননি।
ইউপি সদস্য সিরাজুল ইসলাম বলেন, টাকা প্রশাসনিক কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলামের কাছেই ছিল বলে তিনি জানেন। তবে প্রশাসনিক কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলামের দাবি, টাকা কোথায় আছে আমি জানি না।
ঘটনাটি ফেসবুকের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ইউএনও বেদবতী মিস্ত্রী সংশ্লিষ্ট সবাইকে কার্যালয়ে ডেকে পাঠান, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার নির্দেশ দেন এবং অভিযুক্ত দুই ব্যক্তিকে শোকজ করেন।
ইউএনও বেদবতী মিস্ত্রী বলেন, ১০ জুন ওই নারী আমার কার্যালয়ে এসেছিলেন। জানতে পারি, তিনি আমার স্টাফদের কাছে এক লাখ টাকা দিয়েছেন। সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসনিক কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম ও উপস্থিত জনপ্রতিনিধি সিরাজুল ইসলামকে টাকাটি দ্রুত ওই নারীর কাছে ফিরিয়ে দিতে নির্দেশ দিই। পরে জানতে পারি, টাকা তার কাছে পৌঁছায়নি। বিষয়টির সঙ্গে যদি কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত থাকেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলাসহ সর্বোচ্চ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।