× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

লালমোহনে ভঙ্গুর বাঁধে বিপন্ন মানুষ

জুয়েল সাহা বিকাশ, ভোলা

প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে

আপডেট : ২ ঘণ্টা আগে

ভোলার লালমোহনে বেড়িবাঁধের বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

ভোলার লালমোহনে বেড়িবাঁধের বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

ভোলার লালমোহনের ফরাজগঞ্জের রিং বেড়িবাঁধের বিভিন্ন অংশে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে বসতঘর। পানিতে ভেসে গেছে গবাদিপশু। আর জোয়ারের পানির সঙ্গে যুদ্ধ করে বেঁচে আছেন তেতুলিয়া নদীর তীরবর্তী করতোয়া আবাসনের হাজারও মানুষ।

প্রায় দেড় বছর ধরে এমন অবস্থা চললেও এর সমাধানে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ জানিয়েছেন আবাসনে বসবাসকারী মানুষ। দ্রুত বেড়িবাঁধ সংস্কারের পাশাপাশি সিসি ব্লক দ্বারা স্থানীয় বাঁধ নির্মাণের দাবিও তাদের।

সরেজমিন গিয়ে জানা গেছে, উপজেলার ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের করতোয়া আবাসন প্রকল্পটি দুই যুগের বেশি সময় আগে নির্মাণ করা হয়। ওই সময় তেতুলিয়া নদীর তীরবর্তী আবাসনটিকে জোয়ার ও জলোচ্ছ্বাস থেকে রক্ষায় প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় একটি উঁচু রিং বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়।

সর্বশেষ ২০২২ সালে এটি সংস্কার করা হয়। এরপর আর সংস্কার করা হয়নি। প্রায় দেড় বছর আগে অতি জোয়ারে বাঁধের প্রায় ৪শ মিটার এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে ভেঙে পড়ে বাঁধের ৭/৮টি অংশ। ফলে জোয়ারের পানি ঢুকে জলমগ্ন করে তুলছে বসতঘর। পানির তীব্র চাপে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আবাসনের বসতঘর। শুধু তাই নয়, আবাসনে বসবাসকারীদের গরু, ছাগল, হাঁস, মুরগিও ভেসে গেছে জোয়ারের পানির টানে।

স্থানীয় বাসিন্দা আসমা আক্তার ও শাহানুর বেগম বলেন, “প্রায় দেড় বছর আগে অতি জোয়ারের পানির চাপে দুই কিলোমিটার রিং বেড়িবাঁধের ৭/৮ অংশে ভেঙে গেছে। এখন জোয়ার আসলেই পানি ঢুকে পড়ে আমাদের বসতঘরে। পানি ঘরের খাট পর্যন্ত উঠে আসে। পরিবারের লোকজন খাটের উপর উঠে বসে থাকি। ৪/৫ ঘণ্টা পর পানি কমলে খাট থেকে নামি।” 

তারা আরও বলেন, জোয়ারের পানিতে আমাদের রান্না করার চুলা নষ্ট হয়ে যায়। ঠিকমতো রান্না-বান্নাও করতে পারি না। গত দেড় বছর ধরে আমরা অনেক কষ্টে আছি। কেউ আমাদের খোঁজ নেয় না।

বিউটি বেগম ও জান্নাত বেগম বলেন, “তাদের স্বামীরা জেলে। মাছ ধরার কাজ করেন। আর আবাসনের নারীরা স্বামীদের পাশাপাশি গরু, ছাগল, হাঁস ও মুরগি পালন করে সংসারের বাড়তি আয় করেন। কিন্তু বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় জোয়ারের পানি ঢুকে আমাদের গরু, ছাগল ও হাসঁ-মুরগি ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। এ কারণে আমরা অনেক ক্ষতির মুখে পড়েছি। আমাদের বাড়তি আয়ের সুযোগ এখন নেই।”

তারা আরও বলেন, জোয়ারের পানির তীব্র স্রোতের চাপে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বসতঘর। ঘরের টিনসহ অন্যান্য কিছু ভেঙে গেছে। আমরা গরিব মানুষ। টাকা পয়সা ধার করে যদি মেরামত করি, তাহলে দেখা যাবে আবারও ক্ষতি হবে জোয়ারের পানিতে। তখন আবার কোথায় টাকা পাবো। তাই এখন ভাঙা বসতঘরেই বসবাস করছি।

আব্দুল রাজ্জাক ও শাহিন বলেন, “ফরাজগঞ্জের করতোয়া আবাসনে ২৬০টি বসতঘরে প্রায় দেড় হাজার মানুষ বাস করে। আমাদের নিরাপত্তার জন্য ওই সময় দুই কিলোমিটার লম্বা একটি রিং বেড়িবাঁধ তৈরি করা হয়। কিন্তু আজ প্রায় দেড় বছর ধরে এটি ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে। অথচ সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। আকাশে মেঘ ও বৃষ্টি দেখলেই আমরা আবাসনের মানুষ আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ি।”

তারা আরও বলেন, দেড় বছরেও পানি উন্নয়ন বোর্ড কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে বাঁধ সংস্কারের পাশাপাশি সিসি ব্লক দ্বারা স্থানীয় বাঁধ নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।

ভোলা পানি উন্নয়ন বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসফাউদদৌলা বলেন, “রিং বেড়িবাঁধের বেশিমাত্রায় ঝুঁকিপূর্ণ ৩শ মিটার অংশ চিহিৃত করা হয়েছে। আপাতত ২শ মিটার এলাকায় ২ হাজার ৭৩৫টি জিও ব্যাগ ও মাটির কাজ করা হবে। এ কাজ দ্রুত সময়ের মধ্যে শুরু হবে। এছাড়াও পরবর্তী সময়ে বাকি কাজও করা হবে।”

শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা