রামগতি-কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে
সেতুর দক্ষিণ পাশে রেলিংঘেঁষা অংশের পিচ ও আরসিসি ঢালাই ধসে গিয়ে বড় আকারের গর্ত তৈরি হয়েছে। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে ভুলুয়া নদীর ওপর নির্মিত প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ের একটি সেতুর একাংশ ধসে পড়ে এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। মাত্র তিন বছরের মাথায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেতুটি। এতে নিয়মিত চলাচল করে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ।
সরেজমিনে গিয়ে শনিবার দেখা যায়, সেতুর মূল পাটাতনের দক্ষিণ পাশের রেলিংঘেঁষা অংশের পিচ ও আরসিসি ঢালাই ধসে গিয়ে বড় আকারের গর্ত তৈরি হয়েছে। গর্তের নিচের মাটি ও সুরকি দেবে গিয়ে ভেতরের অংশ ফাঁকা হয়ে পড়েছে। ফলে সেতুটি দিয়ে চলাচলকারী মোটরসাইকেল, ইজিবাইক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশাগুলোকে অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে পার হতে হচ্ছে। সামান্য অসাবধানতায় যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়রা জানায়, কমলনগর উপজেলার চর কাদিরা ইউনিয়নের চর ঠিকা এলাকায় ভুলুয়া নদীর ওপর সেতুটি নির্মাণ করা হয়। এটি কমলনগর উপজেলার সঙ্গে নোয়াখালী সদরের হানিফ রোডের সরাসরি সংযোগ স্থাপন করেছে। জেলার সঙ্গে যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ এই সেতু ব্যবহার করে প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন ও অন্তত ৩০ হাজার মানুষ যাতায়াত করেন।
সেতুর পাশেই গড়ে উঠেছে ‘চরঠিকা স্মার্ট ভিলেজ’ নামে একটি আদর্শ নিরাপদ গ্রাম, যা উদ্বোধন করেছিলেন লক্ষ্মীপুরের সাবেক জেলা প্রশাসক অঞ্জন চন্দ্র পাল। এই প্রকল্পে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যমও এই সেতু। ফলে সেতুর বর্তমান অবস্থা পুরো এলাকার বাসিন্দাদের উদ্বেগে ফেলেছে।
উপজেলা সূত্র জানায়, প্রায় তিন বছর আগে কমলনগর উপজেলা এলজিইডির তত্ত্বাবধানে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সেতুটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে। তবে নির্মাণকাজ চলাকালে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কাজ বুঝে নেয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। উদ্বোধনের অল্প সময়ের মধ্যেই সেতুর এমন অবস্থা হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে কমলনগর উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী আবদুল কাদের মোজাহিদ বলেন, “সেতুর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। সাধারণ মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে দ্রুত সংস্কারকাজ শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হবে”।