চুয়াডাঙ্গা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে
গ্রেপ্তারকৃত আমাসি লাল্টু মিয়া। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় কিশোর রাফিজ মিয়াকে অপহরণ ও হত্যা মামলার পলাতক প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি রশিও উদ্ধার করা হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে শনিবার এ সব তথ্য জানান।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার ভোরে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার নলিয়া গ্রামের জামালপুর বাজার এলাকা থেকে লাল্টু মিয়াকে (৪১) গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ ভাষ্য অনুযায়ী, আলমডাঙ্গা উপজেলার চিলাভালকী গ্রামের মোছা. আমেনা খাতুনের (৫৬) নাতি রাফিজ মিয়া (১৫) গত ৫ জুন ২০২৬ সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের ফোনে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাকে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখা হয়।
একই দিন রাত ১১টার দিকে অপহরণকারীরা রাফিজের নানির মোবাইল ফোনে কল করে কিশোরটির কান্নাজড়িত কণ্ঠ শুনিয়ে ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। বিষয়টি কাউকে জানালে তাকে জবাই করে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। পরবর্তীতে একই নম্বর থেকে একাধিকবার ফোন করে ভয়ভীতি প্রদর্শনের পাশাপাশি মুক্তিপণের টাকা দাবি করতে থাকে। এ ঘটনায় আলমডাঙ্গা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী-২০২৫) এর ৭/৮/৩০ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি জানান, রাফিজের বাবা দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে থাকায় তাকে অপহরণ করলে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ আদায় করা সম্ভব হবে-এমন পরিকল্পনা করেই তারা ঘটনাটি ঘটায়।
পরিকল্পনা অনুযায়ী ৫ জুন সন্ধ্যায় রাফিজকে ফোনে ডেকে মোটরসাইকেলে করে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কুতুবপুরে জনৈক মজিদের জমি সংলগ্ন অর্জুন খালের পাশে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার হাত-পা বেঁধে মারধর করা হয় এবং তার মোবাইল ফোন ব্যবহার করে পরিবারের সদস্যদের কাছে কল দিয়ে নির্যাতনের চিৎকার শুনিয়ে ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
পরে পরিবারের পক্ষ থেকে টাকা দিতে ব্যর্থ হলে রাত সাড়ে ১১টার দিকে লাল্টুসহ অন্য আসামিরা রশি দিয়ে শ্বাসরোধ করে রাফিজকে হত্যা করে এবং মরদেহ অর্জুন খালে ফেলে রেখে যায়। হত্যার পরও আসামিরা মোবাইল ফোনে একাধিকবার মুক্তিপণের টাকা দাবি করতে থাকে।
চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান বলেন, “আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আদালতে তিনি দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িত পলাতক অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে”।