সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩ ঘণ্টা আগে
মুক্তিযোদ্ধা শামসুল হক ফাউন্ডেশনের নিজস্ব অর্থায়নে ধলেশ্বরী নদীর ওপর নির্মিত হয়েছে প্রায় ২৪০ ফুট দীর্ঘ ও ৭ ফুট প্রশস্ত বাঁশ ও কাঠের একটি সেতু। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
মানিকগঞ্জের সিংগাইরে ধল্লা বাজারসংলগ্ন ধলেশ্বরী নদীর ওপর নির্মিত হয়েছে প্রায় ২৪০ ফুট দীর্ঘ ও ৭ ফুট প্রশস্ত বাঁশ ও কাঠের একটি সেতু। সেতুটি চালু হওয়ায় আশপাশের কয়েক হাজার মানুষের যাতায়াত সহজ ও নিরাপদ হয়েছে।
প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুল হকের স্মৃতিকে ধারণ করে শনিবার দুপুরে সেতুটির উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়। মুক্তিযোদ্ধা শামসুল হক ফাউন্ডেশনের নিজস্ব অর্থায়নে প্রায় পাঁচ লাখ টাকারও বেশি ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণ করে।
অনুষ্ঠানে মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মঈনুল ইসলাম খান শান্ত প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও অনিবার্য কারণে তিনি উপস্থিত হতে পারেননি। পরে তার পরিবর্তে সাভার থানা বিএনপির সভাপতি হাজী মো. জামাল উদ্দিন সরকার ফিতা কেটে সেতুর উদ্বোধন করেন।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, মুক্তিযোদ্ধা শামসুল হক ফাউন্ডেশনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. আব্দুল মান্নান, সাধারণ সম্পাদক অতিরিক্ত কর কমিশনার মোহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ সানি, প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা শামসুল হকের জ্যেষ্ঠ পুত্র ও সিংগাইর উপজেলা জিয়া মঞ্চের সভাপতি হাজী আব্দুল আল মামুন, ফাউন্ডেশনের সদস্যবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন গ্রামের বিপুলসংখ্যক মানুষ।
ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানায়, দীর্ঘদিন ধরে ধল্লা বাজারসংলগ্ন এলাকায় নদী পারাপারে স্থানীয়দের একমাত্র ভরসা ছিল খেয়া। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী, রোগী ও সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো। জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে।
মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা সামসুল হকের বড় ছেলে হাজী মো: আব্দুল আল মামুন বলেন, “আমি রাজনীতি করি দেশ ও মানুষের কল্যাণে। জনগণের কাজ করা আমার নৈতিক দায়িত্ব। আমার বাবাও আমৃত্যু মানুষের সেবা ও জনকল্যাণমুলক কাজ করেছেন। তারই ধারাবাহিকতায় মানুষের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে সেতুটি নির্মাণ করেছি। এই সেতু স্থায়ী সমাধান নয়। ভবিষ্যতে আমার অভিভাবক মানিকগঞ্জ-২ আসনের এমপি ইঞ্জিনিয়ার মঈনুল ইসলাম খান শান্ত'র সহযোগিতায় এখানে স্থায়ী পাকা ব্রিজ নির্মাণ করব”। ইতিমধ্যে ব্রিজটি নির্মাণের জন্য এমপি মহোদয়ের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ডিও লেটার (আধা-সরকারি পত্র) দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক অতিরিক্ত কর কমিশনার মোহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ সানি বলেন, “আমার বাবার স্মৃতিকে মানুষের কল্যাণের মাধ্যমে বাঁচিয়ে রাখার লক্ষ্যেই ২০১৯ সালে মুক্তিযোদ্ধা শামসুল হক ফাউন্ডেশনের যাত্রা শুরু হয়। ২০২২ সালে উপজেলা-ব্যাপী মেধাবৃত্তি কর্মসূচি চালু করি। এরপর শিক্ষা, মানবসেবা ও জনকল্যাণমূলক নানা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছি। এই সেতু নির্মাণও সেই ধারাবাহিকতার অংশ। মানুষের দোয়া ও ভালোবাসা নিয়ে ভবিষ্যতেও আরও বড় পরিসরে সমাজের কল্যাণে কাজ করতে চাই”।
তিনি আরও বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, মানুষের জন্য করা একটি স্থায়ী কাজই একজন মানুষের সবচেয়ে বড় স্মৃতিচিহ্ন হতে পারে। এই সেতু শুধু একটি যোগাযোগের মাধ্যম নয়, এটি মানুষের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতারও প্রতীক”।
স্থানীয় কৃষক আব্দুল জলিল বলেন, “আগে খেয়ার জন্য অনেক সময় অপেক্ষা করতে হতো। কৃষিপণ্য বাজারে নিতে দেরি হতো। এখন খুব সহজেই যাতায়াত করা যাবে”।
স্কুল ছাত্রী সুমাইয়া আক্তার বলেন, “খেয়ার জন্য অপেক্ষা করতে করতে ক্লাসে যেতে লেট হয়ে যেতো। এখন নিরাপদে ও দ্রুত স্কুলে যাওয়া সম্ভব হবে”।
গৃহিণী রেহেনা বেগম বলেন, “অসুস্থ মানুষ নিয়ে নদী পার হতে অনেক কষ্ট হতো। এখন যে কোনো সময় সহজে পারাপার করা যাবে”।