কক্সবাজার প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ জুন ২০২৬ ১৯:৪৮ পিএম
আপডেট : ২৫ জুন ২০২৬ ১৯:৪৮ পিএম
ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বুধবার ভোরে বাপ্পু দেশে পৌঁছালে পেকুয়া থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) সোহেল রানা তাকে গ্রহণ করেন। প্রবা ফটো
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার এক যুবককে ইতালি নেওয়ার প্রলোভনে লিবিয়ায় নিয়ে মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যরা জিম্মি করে রেখেছিল। অবশেষে পুলিশের দীর্ঘ প্রচেষ্টায় প্রায় দুই বছর পর তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
বাংলাদেশ পুলিশ হেডকোয়ার্টার, ইন্টারপোল ও লিবিয়া পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি)-এর সমন্বিত প্রচেষ্টায় ভুক্তভোগী যুবক পরিবারের কাছে ফিরতে সক্ষম হয়েছেন।
ফেরত আসা যুবক নাবিদুল ইসলাম ফাহিম প্রকাশ বাপ্পু (২৩) নবগঠিত পেকুয়া পৌরসভার বাংলাপাড়া এলাকার নাছির উদ্দীন সিকদারের ছেলে।
পুলিশের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছেন, বুধবার (২৫ জুন) ভোরে নাবিদুল ইসলাম ফাহিম ওরফে বাপ্পু দেশে পৌঁছান। সকাল ৬টার দিকে ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পেকুয়া থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) সোহেল রানা তাকে গ্রহণ করেন।
স্বজনরা জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের ২৭ জুলাই সংঘবদ্ধ মানবপাচারকারী চক্র বাপ্পুকে ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখায়। উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে তাকে বাংলাদেশ থেকে প্রথমে লিবিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর চক্রটি তাকে জিম্মি করে পরিবারের কাছে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করে। তাদের দাবির মুখে পরিবার তিন দফায় মোট ৩৬ লাখ টাকা পরিশোধ করে। এরপরও চক্রটি আরও অর্থ দাবি করলে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে বাপ্পু মানবপাচারকারী চক্রের হাতে নির্যাতনের শিকার হন এবং মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হন।
এ ঘটনায় বাপ্পুর মা বাদী হয়ে গত ২০২৫ সালে নভেম্বর মাসে মানবপাচারকারী চক্রের ১২ সদস্যের নাম উল্লেখ করে পেকুয়া থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তে পুলিশ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করে। তাদের দেওয়া তথ্য ও তদন্তের সূত্র ধরে ভিকটিমকে উদ্ধারে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাওয়া হয়।
পেকুয়া থানার ওসি মেহেদী হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “মানবপাচার মামলাটি রুজুর পর বাংলাদেশ পুলিশ হেডকোয়ার্টার, ইন্টারপোল-বাংলাদেশ এবং লিবিয়া পুলিশ এনসিবির সমন্বিত উদ্যোগে মাত্র সাত মাসের মধ্যে ভিকটিমকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।