× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ জাতীয় রাজনীতি সারা দেশ আন্তর্জাতিক অর্থনীতি খেলা বিনোদন মতামত চাকরি-ক্যারিয়ার শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

‘সকলি গরল ভেল’: মনোরেলের সমঝোতা স্মারক বাতিল করল চসিক

চট্টগ্রাম অফিস

প্রকাশ : ৩ ঘণ্টা আগে

আপডেট : ২ ঘণ্টা আগে

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের লোগো

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের লোগো

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) মহানগরীতে প্রস্তাবিত প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার মনোরেল প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক (MoU) ও চুক্তি (MoA) আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করেছে। 

চসিকের সচিবালয় বিভাগের সাধারণ শাখা থেকে বুধবার (২৪ জুন) এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।এর আগে গত ২৩ জুন প্রতিদিনের বাংলাদেশ পত্রিকায় "চাটগাঁর মনোরেল : সকলি গরল ভেল" শিরোনামে একটি বিস্তৃত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়, যেখানে এই প্রকল্পের আড়ালে একটি আন্তর্জাতিক জালিয়াত চক্রের সম্পৃক্ততা কথা উল্লেখ করা হয়।

জালিয়াতির শুরু যেভাবে : প্রতিবেদনে বলা হয়, মিসরের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান 'দি আরব কন্ট্রাক্টরস' এবং বৈশ্বিক নির্মাণ প্রতিষ্ঠান 'ওরাসকম কনস্ট্রাকশন'-এর নাম ও লোগো জালিয়াতি করে একটি ভুয়া কনসোর্টিয়াম তৈরি করা হয়েছিল। এই চক্রের মূল হোতা কাউছার আলম চৌধুরী নিজেকে এই দুই প্রতিষ্ঠানের একমাত্র অনুমোদিত প্রতিনিধি দাবি করে চসিকের সঙ্গে ২০২৫ সালের ১ জুন সমঝোতা স্মারক এবং ২৪ জুন চুক্তি স্বাক্ষর করেন। চসিকের পক্ষে এতে স্বাক্ষর করেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। 'দি আরব কন্ট্রাক্টরস-ওরাসকম-পেনিনসুলা কনসোর্টিয়াম'-এর নামে বিওটি ও পিপিপি পদ্ধতিতে ৭১.৪০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের চারটি রুটে ৭০টি স্টেশনসহ প্রকল্প বাস্তবায়নের রূপরেখা দেখানো হয়।

বিষয়টি যাচাই করতে ওরাসকম কনস্ট্রাকশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে কায়রো হেডকোয়ার্টারের বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ডিরেক্টর শেরিফ শ্যারোবিম জানিয়ে দেন, বাংলাদেশে তাদের কোনো উপস্থিতি বা অনুমোদিত প্রতিনিধি নেই এবং কাউছার আলম চৌধুরী তাদের পরিচিত কেউ নন। নিজেদের নাম ব্যবহারকে বেআইনি বলে আইনি অধিকার সংরক্ষণের কথাও জানায় প্রতিষ্ঠানটি।

মিসরের এই অস্বীকৃতির পরও কাউছার আলম দাবি করেছিলেন, বাংলাদেশে নিবন্ধিত 'ওরাসকম কনস্ট্রাকশন বাংলাদেশ' নামে তাদের প্রতিষ্ঠান আছেÑ যার প্রমাণ হিসেবে তিনি একটি মেয়াদোত্তীর্ণ গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ট্রেড লাইসেন্স দেখান, যেখানে ব্যবসার ধরন উল্লেখ ছিল 'প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার ও সরবরাহকারী'। তবে বিডা বা আরজেএসসির বাধ্যতামূলক কোনো অনুমোদনপত্র তিনি দেখাতে পারেননি। এই কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এম আলী নাজির শাহীনওÑ যিনি ২০২২ সালে কোটি টাকা প্রতারণার অভিযোগে কারাদণ্ডিত হয়ে সেনানিবাস এলাকায় অবাঞ্ছিত ঘোষিত হয়েছিলেন।

চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সভাপতি আমির হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরীর সংশ্লিষ্টতাও প্রতিবেদনে উঠে আসে- আগ্রাবাদের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে অনুষ্ঠিত চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তিনিই স্থপতি আশিক ইমরানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। এ বিষয়ে নিজের সম্পৃক্ততা প্রসঙ্গে আমির হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘এখন একটা অনুষ্ঠানে আছি। এ বিষয়ে আপনার সঙ্গে রাতে কথা বলব।’

প্রতিবেদনে আরও জানা যায়, বর্তমান মেয়র শাহাদাত হোসেনের আগে সাবেক দুই মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন ও রেজাউল করিম চৌধুরীর কাছেও একই ধরনের প্রতারণার প্রস্তাব নিয়ে গিয়েছিল এই চক্রটি। আশিক ইমরানের সতর্কতায় আ জ ম নাছির সরে আসেন, আর রেজাউল করিম ১০ শতাংশ কমিশন দাবি করায় চক্রটি সটকে পড়ে।

বিডা ও চসিকের ব্যর্থতা প্রসঙ্গে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, তথ্য যাচাই ও সত্যতা নিশ্চিত করার যে দায়িত্ব তাদের ছিল, তা তারা পালন করতে পারেনিÑ যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অন্যদিকে বিডার বিনিয়োগ গবেষণা ও নীতি ও পরিকল্পনা উইংয়ের পরিচালক ড. মো. হুমায়ুন কবির খান এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান এবং সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রশ্ন করা হলে ফোন সংযোগ কেটে দেন। জালিয়াতি প্রকাশের পরও কাউছার আলম দাবি করেছিলেন, তিনি দুই দিন পর প্রেস ব্রিফিং করে নিজের পক্ষে প্রমাণ দেখাবেন।

আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল হলো চুক্তি : জালিয়াতির বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসে চসিক কর্তৃপক্ষ। বুধবারের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, গত ২৩ জুন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, ঢাকাস্থ মিশরীয় দূতাবাস ২২ জুন তারিখের একটি স্মারকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিডাকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেছে যে, কাউছার আলম চৌধুরী Arab Contractors Orascom Peninsula Consortium-এর কোনো অনুমোদিত প্রতিনিধি নন। এই তথ্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২৩ জুন তারিখের পত্রের মাধ্যমেও নিশ্চিত করা হয়।

এই তথ্যের ভিত্তিতে চসিক কর্তৃপক্ষ কাউছার আলম চৌধুরীর সাথে স্বাক্ষরিত ২০২৫ সালের ১ জুনের সমঝোতা স্মারক (MoU) এবং ২৪ জুনের চুক্তি (MoA) বাতিল ঘোষণা করেছে। প্রজ্ঞাপনে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের স্বাক্ষর রয়েছে এবং এর অনুলিপি বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আফ্রিকা অনুবিভাগের মহাপরিচালক, চসিকের সচিব, আইন কর্মকর্তা, প্রধান প্রকৌশলী এবং কাউছার আলম চৌধুরী নিজেকেও প্রেরণ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে জানা যায়, দায় নিয়ে চসিক ও বিডার মধ্যে এখনো চলছে আনুষ্ঠানিক চিঠি আদান-প্রদান। চসিকের একটি সূত্রের দাবি, প্রকল্পটি প্রথমে বিডাই নিয়ে আসে এবং তাদের সুপারিশের ভিত্তিতেই চুক্তি হয়, ফলে বিদেশি বিনিয়োগ প্রস্তাব যাচাই-বাছাইয়ের দায়িত্ব মূলত বিডারÑ যা তারা পালন করেনি। 

শেয়ার করুন-

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা