গোপালগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনের বঙ্গবন্ধু সড়কে শনিবার সকাল ১০টায় মুক্তিযোদ্ধা মো. মোশারেফ হোসেন মোল্লার বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগে মানববন্ধন পালিত হয়। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার চন্দ্রদিঘলীয়া গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মো. মোশারেফ হোসেন মোল্লার বিরুদ্ধে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত অপপ্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে জেলা ও সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড।
গোপালগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনের বঙ্গবন্ধু সড়কে শনিবার সকাল ১০টায় গোপালগঞ্জ জেলা ও সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আয়োজনে এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।
ঘণ্টাব্যাপী চলা এই কর্মসূচিতে মুক্তিযোদ্ধারা একে অপরের হাত ধরে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে নিজেদের ক্ষোভ ও প্রতিবাদ প্রকাশ করেন।
মানববন্ধনে গোপালগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক মুক্তিযোদ্ধা শরীফ রফিকুজ্জামান, মুক্তিযোদ্ধা শেখ বোরহান উদ্দিন, ছবেদ আলী ভুঁইয়া ও ভুক্তভোগী মুক্তিযোদ্ধা মো. মোশারেফ হোসেন মোল্লাসহ অনেকে বক্তব্য রাখেন।
মানববন্ধন শেষে গোপালগঞ্জ জেলা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগী মোশারেফ হোসেন মোল্লা।
তিনি বলেন, “সম্প্রতি যুগান্তর, বাংলা ট্রিবিউন, কালবেলা, ইনকিলাব, আমার বার্তাসহ একাধিক গণমাধ্যমের প্রিন্ট ও অনলাইন ভার্সনে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে আমাকে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত”।
তিনি বলেন, “আমি ৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধের একজন স্বীকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের গেজেটভুক্ত তালিকায়ও আমার নাম রয়েছে। অথচ কোনও ধরনের যাচাই-বাছাই ছাড়াই অসম্পূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের ভিত্তিতে আমাকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে”।
এসময় নিজের দাবির পক্ষে তিনি মুক্তিবার্তা, মন্ত্রণালয়ের গেজেট, মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়পত্র, স্বাধীনতা সংগ্রামের সনদপত্রসহ বিভিন্ন সরকারি নথি উপস্থাপন করে বলেন, “২০২১ সালে মুক্তিযোদ্ধা তালিকাভুক্তির জন্য আবেদনকারীদের যাচাই-বাছাইয়ের একটি অসম্পূর্ণ তালিকার তথ্যকে ভিত্তি করে আমাকে নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে। অথচ গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার সরকারি মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় আমার নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে”।
মোশারেফ হোসেন মোল্লা বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের সময় আমি এবং ও আমার ছোট ভাই ভারতে গিয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করি এবং পরে দেশে ফিরে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করি। আমাদের মোল্লা পরিবারের একাধিক সদস্য মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। সেই ইতিহাস উপেক্ষা করে আমাকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আখ্যায়িত করা অত্যন্ত দুঃখজনক”।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “প্রতিবেদনের আগে আমার কোনো বক্তব্য নেওয়া হয়নি”।
এছাড়া স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড, জেলা প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কাছ থেকেও তথ্য যাচাই করা হয়নি বলে তার দাবি।
সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত তথ্য উদঘাটন এবং তার মানহানির জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।