বগুড়া জেলা গোয়েন্দা শাখা সংবাদ সম্মেলন। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
বগুড়ার আদমদীঘি থানার সাময়িক বরখাস্ত পুলিশ কনস্টেবল রানা মাসুদের মেয়েকে উদ্ধার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ ঘটনায় মূল অভিযুক্ত যুবকসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার দৈব নন্দপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার ভোরে কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া প্রধান অভিযুক্তের নাম শহীদ হোসেন (২০)।
বিকালে বগুড়া ডিবি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান এ সব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, “উদ্ধার হওয়া কিশোরীর ডাক্তারি পরীক্ষা করা হবে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে”।
পুলিশ জানায়, আদমদীঘি থানায় কর্মরত কনস্টেবল রানা মাসুদের মেয়ের সঙ্গে শহীদ হোসেনের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত ১ মে ওই যুবকের সঙ্গে কিশোরী বাড়ি থেকে চলে যায়। ঘটনার পর রানা মাসুদ আদমদীঘি থানায় মামলা করতে গেলে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামরুজ্জামান মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানান বলে অভিযোগ ওঠে।
পরে রানা মাসুদ আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে গত ৭ মে আদমদীঘি থানায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়। মামলায় শহীদ হোসেনসহ ছয়জনকে আসামি করা হয়।
রানা মাসুদের অভিযোগ, এর আগে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি এলাকায় তার মেয়েকে পাওয়া গেলেও স্থানীয় থানার ওসি আব্দুল হাফিজ তাকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেননি। এ নিয়ে তিনি ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আদমদীঘি ও পাঁচবিবি থানার দুই ওসির বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ তোলেন। তিনি দাবি করেন, নিজে পুলিশ সদস্য হওয়া সত্ত্বেও পুলিশের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাননি।
রানা মাসুদের এ সব বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তার মেয়েও প্রেমিককে সঙ্গে নিয়ে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে। ওই ভিডিওতে সে বাবার বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ তোলে। পরে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে রানা মাসুদকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান বলেন, “উদ্ধার হওয়া কিশোরীর বয়স ১৮ বছরের কম হওয়ায় তাকে নিয়ে চলে যাওয়ার ঘটনা আইনের দৃষ্টিতে অপহরণ হিসেবে বিবেচিত হবে। এ ঘটনায় সুনির্দিষ্ট মামলা রয়েছে”।
রানা মাসুদের সাময়িক বরখাস্ত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “কন্যা নিখোঁজ হওয়ার পর তাকে উদ্ধারে গিয়ে কনস্টেবল রানা মাসুদ বিধিবহির্ভূত আচরণ করেছিলেন। এ কারণে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে”।
সংবাদ ব্রিফিং শেষে রানা মাসুদ সাংবাদিকদের বলেন, “মেয়েকে উদ্ধারে ডিবি পুলিশের ভূমিকার জন্য তিনি কৃতজ্ঞ”। তবে তিনি আগের অভিযোগে অনড় রয়েছেন।
রানা মাসুদ বলেন, “ঘটনার পরপরই আদমদীঘি থানার ওসি মামলা নিলে আমার মেয়ে আরও আগেই উদ্ধার হতো”। একই সঙ্গে তিনি পাঁচবিবি থানার ওসি আব্দুল হাফিজের বিরুদ্ধেও অসহযোগিতার অভিযোগ পুনর্ব্যক্ত করেন।