বগুড়ার নবগঠিত মোকামতলা উপজেলায় ‘সীমান্ত’, ‘দিগন্ত’ ও ‘মীরবাড়ী’ ইউনিয়নের নাম পরিবর্তন নিয়ে জগন্নাথপুর উচ্চবিদ্যালয় মাঠে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। প্রবা ফটো
বগুড়ার নবগঠিত মোকামতলা উপজেলায় ‘সীমান্ত’, ‘দিগন্ত’ ও ‘মীরবাড়ী’ ইউনিয়নের নাম পরিবর্তন নিয়ে মঙ্গলবার (২৩ জুন) গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে মতামত দেন। এর ভিত্তিতে নাম পরিবর্তনের সুপারিশ করা হবে। তবে ‘দিগন্ত’ ইউনিয়নের নাম নিয়ে মতবিরোধের জেরে একদল বাসিন্দা ও শিক্ষার্থী বিক্ষোভ করেন।
সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত জগন্নাথপুর উচ্চবিদ্যালয় মাঠে এ গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা প্রশাসনের গঠিত কমিটির উদ্যোগে এটি আয়োজন করা হয়। ‘সীমান্ত’ ইউনিয়নের জন্য জগন্নাথপুর ও অভিরামপুরÑ এই দুই নতুন নাম প্রস্তাব করা হয় এবং উপস্থিত অনেকে গণস্বাক্ষরের মাধ্যমে সমর্থন জানান। অন্যদিকে ‘দিগন্ত’ ইউনিয়নের নাম পরিবর্তন করে ‘রহবল’ ও ‘পাকুতলা’ রাখার দাবি ওঠে। তবে রহবল এলাকার কিছু বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ না থাকায় অসন্তোষ দেখা দেয়। পরে তারা রংপুর মহাসড়কে বিক্ষোভ করে ‘রহবল ইউনিয়ন’ নামের স্বীকৃতি দাবি জানান। পরে স্থানীয় নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং তাদের দাবি আলাদাভাবে উপস্থাপনের আশ্বাস দেওয়া হয়।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মীরবাড়ী, সীমান্ত ও দিগন্ত ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের পৃথক তিনটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ইউনিয়নগুলোর নাম পরিবর্তনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ-সংক্রান্ত চিঠি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পাওয়া গেছে।
গত ১৪ জুন জারি করা সরকারি প্রজ্ঞাপনে শিবগঞ্জ ও মোকামতলা উপজেলার প্রশাসনিক পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে চারটি নতুন ইউনিয়ন গঠন করা হয়। এগুলোর নাম রাখা হয়Ñ মীরবাড়ী, সীমান্ত, দিগন্ত ও স্বর্ণগ্রাম। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিইডি) প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের পৈতৃক বাড়ি ও তার দুই ছেলের নামের সঙ্গে মিল থাকায় তিন ইউনিয়নের নাম নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। বিষয়টি নিয়ে জাতীয় সংসদেও আলোচনা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এর আগে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে গঠিত একটি কমিটি স্থানীয় পর্যায়ে গণশুনানি শেষে চারটি ইউনিয়নের নামের সুপারিশ করে। পরে জেলা প্রশাসক ১১ ও ১৪ জুন পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ইউনিয়নগুলোর নাম চূড়ান্ত করেন। তবে নামকরণ নিয়ে বিতর্ক শুরু হলে শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হস্তক্ষেপে তিনটি ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে স্বর্ণগ্রাম ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। স্থানীয় অনেকেই এ ইউনিয়নের নামও পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন।