নরসিংদী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে
নিহত শাহরিয়ার আহমেদ ইমন। প্রবা ফটো
ইউরোপের দেশ সাইপ্রাসের লারনাকা শহরে নিখোঁজের দশ দিন পর রবিবার (২১ জুন) শাহরিয়ার আহমেদ ইমন (২২) নামে এক বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে শাহীন বাবু নামে এক বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করে সাইপ্রাস পুলিশ।
পরে লারনাকা জেলা আদালত তার ৮ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে শাহীন হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন। মোবাইলের ওয়াই-ফাই হটস্পট চাওয়া নিয়ে বাসে কথা কাটাকাটির জেরে ইমনকে হত্যার পরিকল্পনা করেন তিনি। পরিকল্পনা অনুযায়ী হত্যার পর ইমনের মোবাইল ফোন ও সিম কার্ড নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে অপহরণের নাটক সাজিয়ে ইমনের গ্রিসপ্রবাসী বাবা নাসির উদ্দিনের কাছে মুক্তিপণের বার্তা পাঠান।
জবানবন্দিতে শাহীন বাবু জানান, তিনি তুর্কি সাইপ্রাস থেকে অবৈধভাবে গ্রিক সাইপ্রাসে প্রবেশ করে বসবাস করছিলেন। গত ৭ জুন একটি বাসে ভ্রমণের সময় ইমনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। এ সময় ইমন তার কাছে কাজের ব্যবস্থা করে দেওয়ার অনুরোধ করেন এবং নিজেদের মোবাইল নম্বর বিনিময় করেন।
তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, বাসের ঘটনার জেরে হত্যার পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ৯ জুন একটি সুপারমার্কেট থেকে ছুরি কেনেন শাহীন। পরে ১১ জুন তিনি ইমনের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রতিদিন ৫০ ইউরো মজুরির একটি কারখানায় কাজ দেওয়ার প্রলোভন দেখান। শাহীনের কথায় বিশ্বাস করে ওরেক্লিনি এলাকার বাসা থেকে কোফিনু এলাকায় তার সঙ্গে দেখা করতে যান ইমন। পরে শাহীন তাকে কোফিনু কসাইখানার কাছের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যান। সেখানে ছুরি দিয়ে আঘাত করে ইমনকে হত্যা করা হয়। পরে একটি গর্ত খুঁড়ে মরদেহ মাটিচাপা দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে শাহীন পালিয়ে যান বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহত ইমন নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার উত্তর বাখরনগর ইউনিয়নের লোচনপুর গ্রামের গ্রিসপ্রবাসী নাসির মিয়ার বড় ছেলে। প্রায় তিন মাস আগে স্টুডেন্ট ভিসায় তিনি সাইপ্রাসে যান বলে জানান স্বজনরা। সাইপ্রাসের লারনাকার ওরেক্লিনি এলাকায় থেকে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছিলেন। একই এলাকায় গ্রামের প্রতিবেশী রায়হানের সঙ্গে একটি বাসায় থাকতেন তিনি।
ইমনের পরিবার জানায়, গত ১১ জুন রাত ১০টার দিকে ইমনের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে বাবার ফোনে একটি বার্তায় ইমনকে অপহরনের দাবি করা হয় এবং ৩৫ হাজার ইউরো (প্রায় ৫০ লাখ টাকা) মুক্তিপণ চাওয়া হয়। টাকা না দিলে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিক্রি করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়। প্রথমে পরিবার বিষয়টিকে অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার ঘটনা মনে করলেও পরদিন সকাল পর্যন্ত ইমন বাসায় না ফেরায় রুমমেট রায়হান স্থানীয় থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন।
ইমনের ছোট ভাই নয়ন আহমেদ বলেন, ইমনের কোনো খোঁজ না পেয়ে একপর্যায়ে অপহরণকারীদের সঙ্গে চুক্তি হওয়া পাঁচ লাখ টাকা পাঠাতে রাজি হই এবং রবিববার দুপুরে টাকা পাঠাতে ব্যাংকে যাই। তবে মুক্তিপণ দাবিকারীরা ইমনের সঙ্গে কথা বলিয়ে দিতে অস্বীকৃতি জানালে আমরা ফিরে আসি। পরে জানতে পারি, সাইপ্রাস পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করেছে।
রায়পুরার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদ রানা বলেন, সাইপ্রাসে এক শিক্ষার্থী অপহরণের পর হত্যার শিকার হওয়ার বিষয়টি শুনেছি। সেখানে এক বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও জেনেছি। তবে দূতাবাস থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা চাওয়া হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।