নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১ ঘণ্টা আগে
নবীনগরের বাসিন্দা মো. কামাল মিয়াকে ঘর থেকে তুলে নিয়ে ডাকাতি মামলায় জড়ানোর অভিযোগে মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলন করেছেন তার পরিবারের সদস্যরা। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার আলীয়াবাদ গ্রামের বাসিন্দা মো. কামাল মিয়া ওরফে কামাল ভেন্ডরকে (৫৫) ঘর থেকে তুলে নিয়ে ডাকাতি মামলায় জড়ানোর অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তার পরিবারের সদস্যরা।
কামাল মিয়ার ছোট ভাই জামাল উদ্দিন রুবেল মঙ্গলবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, গত ১৯ জুন দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে একদল পুলিশ সদস্য তাদের বাড়ি ঘেরাও করে।
এসময় ঘুম থেকে ডেকে কামাল মিয়া ও তার স্ত্রী পাপিয়া বেগমকে একটি সাদা মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, ভোর সাড়ে ৫টার দিকে নবীনগর থানায় যোগাযোগ করা হলে প্রথমে আটক হওয়ার বিষয়ে কোনো তথ্য নেই বলে জানানো হয়। পরে ডিউটি অফিসারের সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ করলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানায় তাদের রাখা হয়েছে বলে জানানো হয়।
তারা জানান, পরবর্তীতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানায় গেলে পাপিয়া বেগমকে ছেড়ে দেওয়া হলেও কামাল মিয়াকে একটি ডাকাতি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জামাল উদ্দিন রুবেল বলেন, “পারিবারিক বিরোধ ও পূর্ব শত্রুতার জেরে তার বড় ভাইকে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে”।
তিনি জানান, ২০২২ সালে তার বড় বোন কুহিনূর বেগমের সঙ্গে কসবা উপজেলার আদ্রা গ্রামের রাশেক মিয়ার বিয়ে হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন পারিবারিক কলহের জেরে ২০২৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর তাদের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে।
এরপর থেকেই রাশেক মিয়া তাদের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ হয়ে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়ে আসছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রুবেলের দাবি, ডাকাতি মামলার ১ নম্বর আসামি রাশেক মিয়া পূর্ব শত্রুতার জেরে কৌশলে তার নির্দোষ ভাইকে মামলায় জড়িয়েছেন।
কামাল মিয়ার স্ত্রী পাপিয়া বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার স্বামী ১৯ জুন ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে যাননি। গভীর রাতে পুলিশ এসে আমাদের বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়। আটক করার প্রায় ১০ ঘণ্টা পর মামলা দায়ের করে তাকে আদালতে পাঠানো হয়। আমি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আমার নিরপরাধ স্বামীর মুক্তি চাই এবং প্রকৃত ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।”
এ বিষয়ে নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোরশেদুল আলম চৌধুরী বলেন, “মামলাটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানায় দায়ের হয়েছে। তদন্তের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানার সঙ্গে যোগাযোগ করলে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে”।