ঝিনাইদহ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৫৭ মিনিট আগে
আপডেট : ৫২ মিনিট আগে
কালীগঞ্জে চাঞ্চল্যকর শিশু তাবাচ্ছুমকে ধর্ষণ ও হত্যাকারী আবু তাহেরের মৃত্যুদণ্ড রায় দিয়েছেন আদালত। প্রবা ফটো
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে চাঞ্চল্যকর চার বছরের শিশু তাবাচ্ছুমকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা মামলায় বিচারিক কার্যক্রম শেষে রায় ঘোষণা করেছেন আদালত।
মামলার আসামি আবু তাহেরকে মৃত্যুদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন
বিচারক। ঝিনাইদহ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. সালেহুজ্জামান
সোমবার (২২ জুন) বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে এই আলোচিত রায় ঘোষণা করেন। ঘটনার প্রায় চার
মাসের মাথায় পাঁচ কার্যদিবসে এই রায় দেন তিনি।
রায়ে জরিমানার টাকা আসামির সম্পত্তি বিক্রি করে আদায় করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া হত্যার পর লাশ গুম করার অপরাধে আসামিকে আরও ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এসব তথ্য নিশ্চিত করছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আকিদুল ইসলাম।
এদিকে ঘটনা সংঘটিত হওয়ার পর থেকে রায় ঘোষণা পর্যন্ত মাত্র ১১৬ দিনের (৩ মাস ২৬ দিন) মধ্যে এই মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন ও রায় ঘোষণা হলোÑ যা ঝিনাইদহের আদালতে দ্রুততম সময়ে রায় ঘোষণার এক অনন্য নজির। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আবু তাহের কালীগঞ্জ উপজেলার ফারাসপুর গ্রামের শফি উদ্দীনের ছেলে।
ঘটনার পর পরই খুনি পালিয়ে গেলেও পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে ওই দিন
রাতেই কুষ্টিয়া শহরের একটি ভাড়া বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর আসামি
আবু তাহের পুলিশের কাছে এবং পরবর্তী সময়ে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় নিজের
অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা
(ওসি) জেল্লাল হোসেন গত ২৬ মে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। এরপর দ্রুততম সময়ে মামলার ১৬ জন সাক্ষীর
সাক্ষ্যগ্রহণ ও শুনানি শেষে রবিবার যুক্তিতর্ক শেষ হয়।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে পিপি অ্যাডভোকেট আকিলুল ইসলাম এবং আসামিপক্ষে
রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী অ্যাডভোকেট তরিকুল আলম শুনানিতে অংশ নেন।রায় ঘোষণার সময় আদালত
প্রাঙ্গণে নিহত শিশুর পরিবারের সদস্য ও বিপুলসংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার
পর সন্তোষ প্রকাশ করে নিহত তাবাচ্ছুমের বাবা নজরুল ইসলাম ও মা হালিমা খাতুন বলেন, আমরা
আমাদের একমাত্র সন্তানকে হারিয়েছি। আদালতের এ রায়ে আমরা ন্যায়বিচার পেয়েছি। এখন দ্রুত
রায় কার্যকরের দাবি জানাই।