শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১ ঘণ্টা আগে
আপডেট : ১ ঘণ্টা আগে
শ্যামনগরে চিংড়ি পোনা আড়তের মধ্যদিয়ে অপরিকল্পিত ড্রেন নির্মাণের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন পোনা বিক্রেতা ব্যবসায়ীরা। প্রবা ফটো
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে একমাত্র চিংড়ি পোনা (পিএল) ক্রয়-বিক্রয় কেন্দ্রের মধ্য দিয়ে সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগের অপরিকল্পিত ড্রেন নির্মাণের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন ব্যবসায়ীরা।
সোমবার (২২ জুন) সকালে উপজেলার বংশীপুর
চিংড়ি পোনা ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির আয়োজনে ক্রয়-বিক্রয় কেন্দ্রের সামনে রাস্তার উপরে
এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে বংশীপুর চিংড়ি পোনা ব্যবসায়ী
কল্যাণ সমিতির সভাপতি এম কে কামরুজ্জামান কচির সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সমিতির সাধারণ
সম্পাদক কাদের গাজী, চিংড়ি পোনা ব্যবসায়ী ফারুক হোসেন, আবু বক্কার সিদ্দিক বাবু, আব্দুল
আহাদসহ প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, বংশীপুর চিংড়ি পোনা ক্রয়-বিক্রয়
কেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের চিংড়ি খাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক
কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। প্রতিদিন এখানে বিপুল পরিমাণ চিংড়ি পোনা ক্রয়-বিক্রয় হয়Ñ যা
স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। কিন্তু মার্কেটের মধ্য দিয়ে ড্রেন নির্মাণ
করা হলে ব্যবসার মারাত্মক ক্ষতি হবে এবং বহু ব্যবসায়ী ও শ্রমিক জীবিকা হারানোর ঝুঁকিতে
পড়বেন।
বক্তারা আরও বলেন, উন্নয়ন কার্যক্রম
অবশ্যই প্রয়োজনÑ তবে তা হতে হবে জনস্বার্থ ও বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এমন কোনো
প্রকল্প বাস্তবায়ন করা উচিত নয়Ñ যা মানুষের জীবিকা ও ব্যবসার ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা ছাড়াই অপরিকল্পিতভাবে ড্রেন নির্মাণের উদ্যোগ
গ্রহণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।তাদের দাবি, বাজারের অবকাঠামো ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম
ক্ষতিগ্রস্ত না করে বিকল্প পরিকল্পনার মাধ্যমে ড্রেন নির্মাণের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে
হবে।
শ্যামনগর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা
তৌহিদ হাসানের ভাষ্য, চারটি উপজেলার মানুষ এখান থেকে চিংড়ি পোনা (পিএল) ক্রয়-বিক্রয়
করে থাকে। প্রতিদিন প্রায় কোটি টাকার ওপর চিংড়ির পোনা ক্রয়-বিক্রয় হয়Ñ যা স্থানীয় অর্থনীতিতে
গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ মৎস্য অধিদপ্তর
এবং জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার বাস্তবায়নের ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে ২ বছর আগে কমিউনিটি-বেইজড
ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট ফিসারিজ অ্যান্ড অ্যাকোয়াকালচার ডেভেলপমেন্ট ইন বাংলাদেশ প্রকল্পের
আওতায় এই কেন্দ্রটি তৈরি হয়।