ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে
আপডেট : ২ ঘণ্টা আগে
অভিযুক্ত অডিটর হৃদয় মিয়া। ছবি: সংগৃহীত
কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত অডিটর হৃদয় মিয়ার বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রবিবার সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বরে অডিটর হৃদয় মিয়াকে নগদ টাকা লেনদেনের সময় হাতেনাতে ধরেন ডিজিএফআইয়ের এক কর্মকর্তা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অডিটর হৃদয় মিয়া ঘটনার সত্যতা স্বীকার করলে বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) কে. এম মামনুর রশীদকে অবহিত করা হয়।
এরপর পরে তাকে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কক্ষে বসিয়ে রাখা হয়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ. এইচ. এম আজিমুল হক সাংবাদিকদের জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অডিটর হৃদয় মিয়া ঘুষ লেনদেনের বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার বর্তমানে একটি সভায় কিশোরগঞ্জ জেলায় অবস্থান করছেন। তিনি ফিরে এলে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
এদিকে, অডিটর হৃদয় মিয়াকে ফাঁদে ফেলার অভিযোগ উঠেছে গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদ সচিব প্রদীপ দাসের বিরুদ্ধে।
অভিযুক্ত হৃদয় মিয়া দাবি করেন, আমাকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে।
তিনি বলেন, গত সপ্তাহে ইউনিয়ন সচিব প্রদীপ দাস আমার সঙ্গে দেখা করে অগ্রিম সহায়তা মঞ্জুরি ফাইল সংক্রান্ত কাজে সহযোগিতার বিনিময়ে টাকা দিতে চেয়েছিলেন।
তিনি আমাকে রবিবার সকালে ফোন করে উপজেলায় ডেকে আনেন এবং আমার হাতে সাত হাজার টাকা ধরিয়ে দিয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে গোয়েন্দা কর্মকর্তার মাধ্যমে আমাকে ধরিয়ে দেন।
তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউনিয়ন সচিব প্রদীপ দাস।
তিনি বলেন, আমার কাছে ২১টি ফাইলের জন্য হৃদয় মিয়া ২১ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেছিলেন। সেই দাবিকৃত ঘুষের অংশ হিসেবে আমি ২০ জুন সকালে তাকে ৭ হাজার টাকা দিয়েছি।
উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা সোহেল মিয়া বলেন, আমি সম্প্রতি এই উপজেলায় যোগদান করেছি। অডিটরের বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগটি আমি শুনেছি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সঙ্গে পরামর্শ করে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
এ বিষয়ে ভৈরব উপজেলা নির্বাহী অফিসার কে.এম মামুনুর রশীদ বলেন, হিসাবরক্ষণ অফিসের অডিটরের ঘুষ লেনদেনের বিষয়টি আমরা অবহিত হয়েছি এবং তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।
মামুনুর রশীদ বলেন, ঘুষের টাকা লেনদেনে দুই কর্মকর্তাই অপরাধ করেছে। একজন ইউনিয়ন সচিবের কাছে টাকা চাইলে তিনি প্রথমে আমাকে বিষয়টি অবগত করতে পারতেন।
এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে এবং তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ভৈরব উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই ফাইল সই করার বিনিময়ে টাকা দাবির গুঞ্জন ছিল।
অডিটরের এই ধরা পড়ার ঘটনায় উপজেলা কমপ্লেক্সে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।