মৌলভীবাজার প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১ ঘণ্টা আগে
চা-শ্রমিক জেসমিন আক্তার জাতীয় চা দিবস উপলক্ষে শ্রেষ্ঠ চা পাতা চয়নকারী হিসেবে পুরস্কার লাভ করলেন । প্রবা ফটো
জাতীয় চা দিবস উপলক্ষে মৌলভীবাজারের চায়ের রাজধানী হিসেবে খ্যাত শ্রীমঙ্গলে শনিবার (২০ জুন) অনুষ্ঠিত পর পর তৃতীয়বারের মতো দেশের শ্রেষ্ঠ চা পাতা চয়নকারী হিসেবে পুরস্কার লাভ করেছেন ৫৮ বছর বয়সি চা-শ্রমিক জেসমিন আক্তার।
তিনি চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি উপজেলায় অবস্থিত ইস্পাহানী গ্রুপের মালিকানাধীন নেপচুন চা বাগানের একজন স্থায়ী শ্রমিক। ১৯৬০ সালে প্রতিষ্ঠিত এ চা বাগানটিতে তিনি ১৯৮৪ সাল থেকে একটানা শ্রমিক হিসেবে কর্মরত। ৪২ বছরের চা পাতা চয়নের অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ জেসমিন চা-পাতা চয়নে অসাধারণ দক্ষতার কারণে ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত চতুর্থ জাতীয় চা দিবস-২০২৫ সালে অনুষ্ঠিত পঞ্চম জাতীয় চা দিবসে শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট লাভের পর শনিবার ২০২৬ সালে ষষ্ঠ জাতীয় চা দিবসে দেশসেরা হয়ে হ্যাট্রিক করেন।
বাংলাদেশ চা বোর্ডের সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা যায়, ২০২৫ সালের
১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নেপচুন চা বাগানের বয়স্ক শ্রমিক জেসমিন আক্তার
মোট ২৫ হাজার ৬২১ কেজি চা পাতা চয়ন করেন। এর ফলে, তিনি ২০২৬ সালের ষষ্ঠ জাতীয় চা পুরস্কারের
জন্য আরও একাধিক জনের সাথে প্রাথমিক তালিকাভূক্ত হন। প্রাথমিক মনোনয়নপ্রাপ্ত শ্রমিকরা
অবতীর্ণ হন চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায়। সেখানে জেসমিন আক্তার ৩০ মিনিটে ১৩ কেজি চা পাতা
চয়ন করে প্রথম স্থান লাভ করেন। আর দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী শ্রমিক ৩০ মিনিটে চয়ন করেন
মাত্র সাড়ে ৯ কেজি পাতা। এবারে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের জন্য তিনি ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৯ টাকা
চেক, একটি ট্রফি ও একটি সনদ লাভ করেন। ষষ্ঠ জাতীয় চা দিবসের অনুষ্ঠানে তার হাতে চেকসহ অন্যান্য পুরস্কার
তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো. মুজিবুর
রহমান চৌধুরী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো.
মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খানসহ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়
ও বাংলাদেশ চা বোর্ডোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
চা শিল্পের পাতা চয়নে দেশসেরার হ্যাট্রিক পুরস্কার গ্রহণের পর প্রতিদিনের
বাংলাদেশের সাথে আলাপকালে জেসমিন আক্তার উচ্ছসিত কণ্ঠে বলেন, ‘মাত্র ১৬ বছর বয়সে চা
বাগানের কঠিন সংগ্রাম শুরু করি। গত ৪২ বছর ধরে কঠোর শ্রম দিয়ে আসছি চা শিল্পে। প্রথমবার
পুরস্কার পাওয়ার পর নিজের প্রতি বিশ্বাস বাড়ে। পরে দ্বিতীয়বার পুরস্কার পাই। আর এবার
পেলাম তৃতীয়বারের মতো পুরস্কার। শুধু আমি একা চা বাগানে কাজ করছি না। চা বাগানের সাথে
আমার পরিবারের রক্ত-ঘাম মিশে আছে। আমি ছাড়াও আমার স্বামী, আমার দুই ছেলে, দুই ছেলের
বউ, এক মেয়ে, মেয়ের জামাই মিলে মোট ৮ জন চা বাগানের শ্রমিক হিসেবে কাজ করে সংসার চালাচ্ছি।
আমরা সবাই চা-বাগানের শ্রমিক পেশায় থাকলেও স্বপ্ন দেখছি নাতি-নাতনিরা লেখাপড়া করে মানুষের
মতো মানুষ হোক। তারা অন্য পেশায় প্রতিষ্ঠিত হয়ে সুন্দর জীবনযাপন করলে আমার ভালো লাগবে।
আমি ব্যক্তিগতভাবে সংসার, কাজের জায়গা যেখানেই কাজ করেছি সেখানেই মন দিয়ে নিজের কাজ
করার চেষ্টা করেছি। কখনো পুরস্কার পাবো সেই চিন্তা মাথায় ছিল না। পরিশ্রম করেছি, তাই
পুরস্কার পেয়েছি। আমি খুশি, খুবই খুশি।’
এ ব্যাপারে মুঠোফোনে ইস্পাহানী গ্রুপের মালিকানাধীন নেপচুন চা বাগানের
ব্যবস্থাপক মো. রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ‘জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ চা পাতা চয়নকারী জেসমিন
খুবই কর্মনিষ্ট ও পরিশ্রমী এক শ্রমিক। তিনি এখনো কঠোর শ্রমের মাধ্যমে অন্যান্য শ্রমিকদের
জন্য এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তার অব্যাহত এ সাফল্য আমাদের বাগানের সবার
জন্য অত্যন্ত আনন্দের ও গর্বের।’