তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে মানববন্ধন। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
দ্রুত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ ভোটমারী এলাকার তিস্তা নদীপাড়ে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মানববন্ধন থেকে বক্তারা তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ এবং জাতীয় বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিত করার দাবি জানান।
‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটি’ আয়োজনে শনিবার দুপুরে এ মানববন্ধনে রংপুর বিভাগের লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, রংপুর ও গাইবান্ধা জেলার হাজারো মানুষ অংশ নেন বলে দাবি আয়োজকদের। মানববন্ধনে তিস্তাপাড়ের নদীভাঙন ও বন্যাকবলিত এলাকার বাসিন্দারা অংশ নিয়ে তাদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ ও ক্ষতির কথা তুলে ধরেন।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী তিস্তাপাড়ের মানুষ বলেন, “বছরের পর বছর ধরে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। ফলে নদীভাঙন, বন্যা ও শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকটের কারণে লাখো মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তারা নতুন আশ্বাস নয়, দ্রুত প্রকল্পের বাস্তব কাজ শুরু করার দাবি জানান।
এ সময় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন জেলার নেতাকর্মীর পাশাপাশি কুড়িগ্রাম থেকে নির্বাচিত দলটির দুই সংসদ সদস্যও মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশে বক্তব্য দেন কুড়িগ্রাম-৩ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মাহবুবুল আলম সালেহী। তিনি সম্প্রতি সরকারের গঠিত কারিগরি কমিটি এবং তিস্তা নদী পরিদর্শনে তিন মন্ত্রীসহ উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের সফরকে ‘প্রহসন’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়ে মানুষ দীর্ঘদিন ধরে শুধু আশ্বাস শুনে আসছে। বাস্তবায়নের জন্য এখন আর নতুন কমিটি নয়, প্রয়োজন কার্যকর উদ্যোগ ও বাজেট বরাদ্দ”।
তিনি আরও বলেন, “তিস্তা অববাহিকার মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষায় মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। জাতীয় বাজেটে এ প্রকল্পের জন্য সুনির্দিষ্ট অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত করে দ্রুত কাজ শুরু করা জরুরি”।
মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটির লালমনিরহাট জেলা আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট ফিরোজ হায়দার লাভলু, সদস্য সচিব মাওলানা হাবিবুর রহমান এবং জেলা কমিটির উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট আবু তাহেরসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, “তিস্তা নদীকে কেন্দ্র করে উত্তরাঞ্চলের লাখো মানুষের জীবন ও অর্থনীতি নির্ভরশীল। অথচ নদীর ভাঙন, চর সৃষ্টি, পানির স্বল্পতা এবং বন্যার কারণে প্রতিবছর বিপুল সংখ্যক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে নদীভাঙন নিয়ন্ত্রণ, সেচ সুবিধা বৃদ্ধি, কৃষি উৎপাদন সম্প্রসারণ এবং এলাকার সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন সম্ভব হবে”।
মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং সরকারের প্রতি অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান।