প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৫৫ মিনিট আগে
আপডেট : ৩৩ মিনিট আগে
বরিশাল বিভাগে এসএসসি ১৯৮৬ তম ব্যাচের দিনব্যাপী নৌ-বিহার-২০২৬। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
‘স্মৃতির টানে প্রিয় প্রাঙ্গণে, এসো মিলি প্রাণের বন্ধনে’-এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এসএসসি ১৯৮৬ বাংলাদেশ, বরিশাল বিভাগের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হলো দিনব্যাপী নৌ-বিহার-২০২৬।
আষাঢ়ের স্নিগ্ধ আবহ, নদীর বুকে মৃদুমন্দ বাতাস আর দীর্ঘদিন পর বন্ধুদের মিলনমেলায় মুখর হয়ে ওঠে অভিজাত লঞ্চ অ্যাডভেঞ্চার-৯। শনিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত চলা এ নৌ-বিহার পরিণত হয় স্মৃতি, আনন্দ ও বন্ধুত্বের এক অনন্য উৎসবে। নদীর বুকে ভেসে চলা লঞ্চজুড়ে ছিল প্রাণবন্ত পরিবেশ।
গান, আড্ডা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, হাস্যরস আর স্মৃতিচারণায় অংশগ্রহণকারীরা ফিরে যান চার দশক আগের সেই স্কুলজীবনের দিনগুলোতে। অনেকের কাছে এটি ছিল বহুদিন পর হারিয়ে যাওয়া বন্ধুদের সঙ্গে পুনর্মিলনের বিরল সুযোগ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে আয়োজকেরা বলেন, “সময়ের ব্যবধানে জীবনের পথ বদলে গেলেও বন্ধুত্বের বন্ধন কখনো ম্লান হয় না। বরং বয়সের পরিপক্বতা সেই সম্পর্ককে আরও গভীর ও অর্থবহ করে তোলে। নৌ-বিহারটি কেবল একটি ভ্রমণ নয়, বরং হৃদয়ের টানে বন্ধুদের একত্র হওয়ার উপলক্ষ”।
আলোচনা পর্বে বক্তব্য দেন গাজী কামাল মাহমুদ, ফসিহ উদ্দীন মাহতাব, কাজী সাইফুল হাসান, খালিদ হাসান তালুকদার, যুগ্মসচিব আলী আকবর এবং অ্যাডভেঞ্চার-৯ লঞ্চের মালিক নিজাম উদ্দীন।
বক্তারা বলেন, “স্কুলজীবনের বন্ধুত্ব মানুষের জীবনের সবচেয়ে নির্মল ও নিঃস্বার্থ সম্পর্কগুলোর একটি। কর্মব্যস্ততা, পারিবারিক দায়িত্ব এবং জীবনের নানা চড়াই-উতরাইয়ের মধ্যেও এই বন্ধন মানুষকে বারবার শেকড়ের কাছে ফিরিয়ে আনে। তারা এমন আয়োজন ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন”।
ফসিহ উদ্দীন মাহতাব তার বক্তব্যে বলেন, “সময়ের স্রোত আমাদের অনেক দূরে নিয়ে গেছে, কিন্তু আজকের এই মিলনমেলা প্রমাণ করে বন্ধুত্বের কোনো বয়স নেই। নদীর মতোই আমাদের সম্পর্ক বহমান, প্রাণবন্ত এবং চিরসবুজ”।
যুগ্মসচিব আলী আকবর বলেন, “পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনের ব্যস্ততার ভিড়ে এমন আয়োজন আমাদের মানসিক প্রশান্তি দেয়। পুরোনো বন্ধুদের সঙ্গে কিছু সময় কাটানো মানে নিজের কৈশোরকে আবার ছুঁয়ে দেখা”।
অ্যাডভেঞ্চার-৯ লঞ্চের মালিক নিজাম উদ্দীন অতিথিদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, “নদীমাতৃক বাংলাদেশের সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি বন্ধুত্বের এমন মহৎ আয়োজনের অংশ হতে পেরে তিনি আনন্দিত”।
গাজী কামাল মাহমুদ বলেন, “এসএসসি ১৯৮৬ শুধু একটি ব্যাচের নাম নয়, এটি আমাদের আত্মিক বন্ধনের একটি পরিবার। জীবনের নানা পর্যায়ে আমরা ভিন্ন ভিন্ন পথে চললেও এই বন্ধুত্ব আমাদের এক সুতোয় গেঁথে রেখেছে। আজকের এই নৌ-বিহার প্রমাণ করেছে, আন্তরিকতা ও ভালোবাসা থাকলে দূরত্ব কোনো বাধা নয়। এমন আয়োজন আগামী প্রজন্মের কাছেও বন্ধুত্বের অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে”।
খালিদ হাসান তালুকদার বলেন, “বন্ধুদের সঙ্গে কাটানো সময় সবসময়ই বিশেষ, তবে দীর্ঘদিন পর এমন মিলনমেলা হৃদয়কে অন্যরকম আবেগে ভরিয়ে দেয়। নদীর বুকে আজকের এই আনন্দঘন আয়োজন আমাদের শৈশব ও কৈশোরের অসংখ্য স্মৃতিকে আবার জীবন্ত করে তুলেছে”।
দিনব্যাপী আয়োজনে আরও উপস্থিত ছিলেন কাজী আনম সাইফুল হাসান আজীম, আল আমিন লিটন, কাজী শরীফুল ইসলাম শফিক, আলী মোর্তজা, সেলিম খান, মাহে আলম সাবু, মাহবুল, এনামুল হকসহ বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত এসএসসি ১৯৮৬ বাংলাদেশ এর সদস্যরা।
আষাঢ়ের মেঘলা আকাশ, নদীর ঢেউ আর বন্ধুদের উচ্ছ্বসিত হাসি যেন দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখে। বিদায়ের ক্ষণে অনেকের চোখে-মুখে ছিল আবেগের ছাপ। আবারও এমন কোনো আয়োজনে মিলিত হওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে সবাই ঘরে ফেরেন। তবে নদীর বুকের সেই দিনভর ভেসে থাকা মুহূর্তগুলো, স্মৃতির অ্যালবামে আরও একটি উজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে রয়ে যাবে-বন্ধুত্ব, ভালোবাসা ও আত্মিক বন্ধনের এক অনন্য সাক্ষ্য হিসেবে।