ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে
বিদ্যালয়ের পুকুরের ডুবে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীর মৃত্যু। পরে মরদেহ উদ্ধার। প্রবা ফটো
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে সাড়ে ৫ ঘণ্টার পর আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে বিদ্যালয়ের পুকুরের গভীর থেকে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী বিপ্লব চন্দ্র আবিরের (১৫) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
নিহত শিক্ষার্থী
বিপ্লব চন্দ্র আবির ফুলবাড়ী গোলাম মোস্তফা (জিএম) পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ভোকেশনাল শাখার
মেকানিক্যাল ট্রেডের নবম শ্রেণির ছাত্র এবং ফুলবাড়ী উপজেলার আলাদিপুর ইউনিয়নের গোকুল
গ্রামের রিকশা ভ্যানচালক বিজন মন্ডল ও শংকরী রানীর ছেলে।
আজ বৃহস্পতিবার
দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে সহপাঠীদের সঙ্গে নিজ বিদ্যালয়ের পুকুরে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ
হয় বিপ্লব চন্দ্র আবির। বিষয়টি জানা জানি হওয়ার পর স্থানীয় দমকল বাহিনীর সদস্যরা উদ্ধার
কাজ শুরু করেন। কিন্তু তাদের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর ফুলবাড়ী পৌরশহরের কাঁটাবাড়ীতে
অবস্থানকারী গাইবান্ধার শ্রী শিবু সরকার ও শ্রী স্বপন সরকার পুকুরের গভীরে নেমে সন্ধ্যা
পৌনে ৭টার দিকে বিপ্লব চন্দ্র আবিবের মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য
কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তৃব্যরত চিকিৎসক বিপ্লব চন্দ্র আবিরকে মৃত ঘোষণা করেন।
উল্লেখ্য,
নিহত বিপ্লব চন্দ্র আবিরের সহপাঠী উৎসব চন্দ্র, শাওন দাস, আলাউদ্দিন সেলিম, শ্রাবণ
চন্দ্রসহ একবাধিক শিক্ষার্থী জানান, দুপুর সাড়ে ১২টায় তাদের ছুটি হওয়ায় তারা অন্তত
২০ শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ের পুকুরের পানিতে গোসল করতে নামে। তাদের সঙ্গে বিপ্লব চন্দ্র
আবিরও ছিল। গোসল করার একপর্যায়ে বিপ্লব চন্দ্র আবিরকে হাফিয়ে যেতে দেখে বন্ধুরা তাকে
পুকুর পাড়ে উঠিয়ে দেয়। পরে অন্যরা আবার গোসল করতে নামলে আবিরও তাদের সঙ্গে পুকুরে নামে।
গোসল শেষে সবাই উপরে উঠলেও আবিরকে না দেখে এবং তার পোশাক, জুতা ও বাইসাইকেল পুকুর পাড়ে
পড়ে থাকতে দেখে খোঁজাখুঁজি শুরু করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে দ্বিতীয়বার গোসল করতে নেমে
আবির উপরে উঠতে না পেরে পানির নিচে তলিয়ে যায়।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত
প্রধান শিক্ষক সুমির সরকার বলেন, বিদ্যালয়ের একজন অফিস সহকারীর মৃত্যুতে বিদ্যালয় ছুটি
দেওয়ার পর ভোকেশনাল শাখার এক দল শিক্ষার্থী পুকুরে গোসল করতে নামে। অন্যরা উঠতে পারলেও
বিপ্লব চন্দ্র আবির উঠে না আসার বিষয়টি জানার পর পরই তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী
কর্মকর্তা আহমেদ হাছান বলেন, থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল লতিফ শাহের সঙ্গে
পরামর্শক্রমে থানায় একটি ইউডি মামলা দায়ের করে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।