যশোর সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০১ জানুয়ারি ২০২৩ ১৭:৪৬ পিএম
আপডেট : ০১ জানুয়ারি ২০২৩ ১৯:৪৩ পিএম
যশোরে বিএডিসির ট্রাকের চাপায় দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া ভ্যান। ছবি: প্রবা
যশোরে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) একটি ট্রাকের চাপায় যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবির) এক ছাত্রীসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় একই বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীসহ দুজন আহত হয়েছেন।
রবিবার (১ জানুয়রি) বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে যশোর-চৌগাছা সড়কে চুড়ামনকাঠি রেলক্রসিংয়ের পাশে ইটভাটার সামনে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন যবিপ্রবির পেট্রোলিয়াম ও মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী ফারজানা সুমি, চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের সর্দ্দার বাগডাঙ্গা গ্রামের আমবটতলা এলাকার ভ্যানচালক মাসুম বিল্লাহ ও সদর উপজেলার কমলপুর গ্রামের গৃহবধু জোহরা বেগম। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সুমির গ্রামের বাড়ি নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায়।
আহতরা হলেন যবিপ্রবির মাস্টার্সের ছাত্র মুত্তাসিন বিল্লাহ ও নিহত জোহরা খাতুনের স্বামী কমলপুর গ্রামের বাসিন্দা আমজাদ হোসেন।
প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাজুল ইসলাম।
নিহত জোহরা বেগমের স্বামী আমজাদ হোসেন বলেন, ‘আমরা যশোর জেনারেল হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে ভ্যানে করে বাড়ি ফিরছিলাম। চুড়ামনকাঠি রেললাইন পার হয়ে ইটভাটার সামনে পৌঁছালে সামনের থেকে একটি ট্রাক এসে আমাদের ভ্যানচাপা দেয়। ট্রাকের চাপায় আমার স্ত্রী ও ভ্যানচালকসহ তিনজন মারা যায়। আমি ও মুত্তাসিন নামে দুইজন বেঁচে যাই।’
যবিপ্রবির শিক্ষক ড. সাইবুর রহমান মোল্লা বলেন, ‘নিহত ফারজানা সুমি ও মুত্তাসিন বিল্লাহ আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। ফারজানা সুমি মারা গেছে এবং মুত্তাসিন বিল্লাহ আহত হয়েছে। খবর পেয়ে আমিসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থলে হাজির হই।’
যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শফিকুর রহমান বলেন, ‘ট্রাকচাপায় তিনজন মারা গেছেন। একই ঘটনায় আমজাদ হোসেন ও মুত্তাসিন নামে দুইজনকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। তবে তারা দুইজন আশঙ্কাজনক।’
ওসি তাজুল ইসলাম বলেন, ‘দুর্ঘটনায় ভ্যানচালকসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন আরও দুই জন। ট্রাকটি বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) ছিল। ট্রাক আটক করলেও চালক পালিয়ে গেছে। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।’
এদিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে হতাহত শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর নিতে আসেন যবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন।
এসময় তিনি বলেন, ‘প্রায়ই এই সড়কে ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটে। ড্রাইভারদের বেপরোয়া চলাচল ও গতির কারণ এটার প্রধান কারণ।’