অভিযুক্ত সঞ্জয় কুমার সরকার। ছবি: সংগৃহীত
খুলনায় গৃহপরিচারিকাকে নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় পুলিশ দম্পতিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
অভিযুক্ত দুজন হলেন—সোনাডাঙ্গা থানার সহকারী-উপ পরিদর্শক (এএসআই) পপি রানী সাহা ও সঞ্জয় কুমার সরকার।
খুলনার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টার দিকে তাদের হাজির করা হলে শুনানি শেষে বিচারক ফারুক ইকবাল এ আদেশ দেন।
ওই গৃহপরিচারিকার মা বাদী হয়ে মামলা দায়েরের পর পুলিশ অভিযুক্ত দুজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করে।
মামলা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুরে রান্নার সময় তরকারি পুড়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে ওই গৃহপরিচারিকার ওপর ক্ষুব্ধ হন এএসআই সঞ্জয় কুমার সরকারের স্ত্রী পপি রানী সাহা।
অভিযোগ রয়েছে, তিনি ওই গৃহপরিচারিকাকে মারধরের পাশাপাশি গরম কড়াই দিয়ে শরীরে ছ্যাঁকা দেন।
পরে নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় এবং সমালোচনার মুখে পড়ে সংশ্লিষ্ট পরিবার।
ঘটনার খবর পেয়ে বুধবার বিকালেই পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ওই গৃহপরিচারিকার উদ্ধার করে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে নিয়ে যায়।
একই সময় এএসআই সঞ্জয় ও তার স্ত্রীকে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়।
সোনাডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, ওই গৃহপরিচারিকা গত পাঁচ বছর ধরে এএসআই সঞ্জয় কুমারের বাসায় কাজ করছিলেন।
ওসি আরও জানান, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত পুলিশ দম্পতি গৃহকর্মী সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে তদন্তকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছিলেন। পরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়।
এদিকে, বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা খুলনার সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট মোমিনুল ইসলাম ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সংস্থার পক্ষ থেকে আইনি ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।