রংপুর ব্যুরো
প্রকাশ : ০১ জানুয়ারি ২০২৩ ১৭:০১ পিএম
আপডেট : ০১ জানুয়ারি ২০২৩ ১৭:১৫ পিএম
দুই বছর ধরে এভাবে তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে অ্যাম্বুলেন্সটি। ছবি : প্রবা
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (রমেক) জন্য প্রায় দেড় কোটি টাকা খরচ করে কেনা অ্যাম্বুলেন্সটি গেল দুই বছর ধরে পড়ে আছে। এতে সেবা নিতে পারছেন না অস্বচ্ছল রোগীরা।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, জনবল সংকটসহ নানা কারণে এটি চালু করা যাচ্ছে না। সমস্যা সমাধানে পদক্ষেপ নিতে স্বাস্থ্য বিভাগকে জানানো হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, খুব শিগগিরই সেবা দেওয়া সম্ভব হবে।
উত্তরাঞ্চলের প্রায় দুই কোটি মানুষের চিকিৎসা সেবার আশ্রয়স্থল রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। এক হাজার শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালটিতে প্রতিদিন প্রায় দুই থেকে তিন হাজার রোগী চিকিৎসা সেবা নেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিভিন্ন বিভাগের সংকটাপন্ন রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তরের প্রয়োজন হয়। স্বচ্ছল ব্যক্তিদের হেলিকপ্টার ও আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে স্থানান্তর করা গেলেও অস্বচ্ছল রোগীদের নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং স্বজনরা পড়েন ভোগান্তিতে। উন্নত চিকিৎসা নিতে না পেরে অনেক রোগী মারাও যাচ্ছেন।
উত্তরাঞ্চলের হাসপাতালটির এমন চিত্র তুলে ধরে স্বাস্থ্য বিভাগের মহাপরিচালকের কাছে লিখিতভাবে জানানো হয়। বিষয়টি স্বাস্থ্য বিভাগে জানানোর পর, ২০২১ সালে কেন্দ্রীয় ঔষধাগার (সিএমএসডি) থেকে প্রায় দেড় কোটি টাকা মূল্যের কার্ডিয়াক অ্যাম্বুলেন্স বা আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্সটি দেওয়া হয়।
নিউরোলজি বিভাগে চিকিৎসাধীন এক রোগীর স্বজন আনিছ মিয়া প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘হাসপাতালের অনেক রোগীকে জরুরিভাবে ঢাকায় নিতে হয়। কিন্তু হাসপাতালে একটি সরকারি আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স থাকার পরও সেটি বন্ধ রাখা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে বাণিজ্য করা চক্রের সঙ্গে যোগসাজশ করে এটি বন্ধ রেখেছে হাসপাতালের কর্মকর্তারা। ওই চক্রের কাছে আমরা জিম্মি। তাদের মাধ্যমে অ্যাম্বুলেন্স নিতে গেলে অনেক টাকা খরচ করতে হয়।’
রংপুরের মানবাধিকার সংগঠক অ্যাডভোকেট জোবাইদুল ইসলাম বলেন, ‘বর্তমান সরকার স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে চেষ্টা চালাচ্ছে। রংপুর বিভাগের মানুষের জন্য আর্শিবাদ হিসেবে এ হাসপাতালে একটি আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স দিয়েছে সরকার। কিন্তু সেটি দুবছর ধরে তালাবদ্ধ রয়েছে। মানুষের অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘অবিলম্বে এ সরকারি সম্পদ সচলের দাবি জানাচ্ছি। তা ছাড়া রংপুরের গণমানুষ একত্রিত হয়ে বর্তমান হাসপাতাল প্রশাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের এক চিকিৎসক বলেন, ‘ঢাকার ঠিকাদাররা স্বাস্থ্য বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছে নানান যন্ত্রাংশ-পরিবহন কেনার লোভনীয় সুবিধা নিয়ে আসেন। হাসপাতালে এসব যন্ত্রাংশ বা পরিবহন কীভাবে চলবে, জনবল কীভাবে নিয়োগ দেওয়া হবে, সেসব না ভেবেই সুবিধা গ্রহণ করে নিজেদের পকেট ভারি করেন তারা। এতে সরকারের কোটি কোটি টাকার সম্পদ পড়ে থেকেই নষ্ট হয়ে যায়।’
দুই বছর ধরে অ্যাম্বুলেন্স তালাবন্ধ হয়ে থাকার পেছনে নানান সঙ্কট রয়েছে বলে জানান রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. শরিফুল হাসান।
প্রতিদিনের বাংলাদেশকে তিনি বলেন, ‘অ্যাম্বুলেন্সটি পেয়েছি দুই বছর। কিন্তু এটির জন্য একজন দক্ষক চালক প্রয়োজন, যা আমাদের নেই। তা ছাড়া অ্যাম্বুলেন্সটিতে রোগী পরিবহনে দরকার এক জন চিকিৎসক, নার্স ও ওয়ার্ড বয়। সেটির ব্যবস্থাও নেই।’
তিনি বলেন, ‘অ্যাম্বুলেন্স পরিবহনে জ্বালানি থেকে শুরু করে অনুষঙ্গিক অনেক বিষয় রয়েছে। এ সব নিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের মহাপরিচালকের কাছে লিখিতভাবে জানিয়েছি। আশা করছি, খুব দ্রুতই জনবল নিয়োগ হবে, অ্যাম্বুলেন্সটি চালু করা সম্ভব হবে।’