রংপুর নগরীর তুলা গবেষণা কেন্দ্রের সামনে হিমাগার ভাড়া বাড়ানোর প্রতিবাদে রাস্তায় আলু ফেলে বিক্ষোভ করে আলু চাষিরা। প্রবা ফটো
হিমাগার ভাড়া বাড়ানোর প্রতিবাদে রংপুরে রাস্তায় আলু ফেলে বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও মহাসড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছে আলু চাষিরা। বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে নগরীর মডার্ন মোড় তুলা গবেষণা কেন্দ্রের সামনে রংপুর-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে শত শত আলু চাষি। সেখানে মানববন্ধন সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মসূচিতে আলু চাষি আজিজার রহমান, মজিবর মিয়া, আনারুল ইসলামসহ অন্যরা বলেন, চলতি বছর আলুর উৎপাদন খরচ বেশি এবং বাজারে আলুর দাম না পাওয়ায় ব্যাপক লোকসানে পড়েছে চাষিরা। এ বছর ২৪ শতক জমিতে আলু উৎপাদন করতে খরচ হয়েছে ৪০ হাজার টাকা। এতে সর্বোচ্চ ৩ হাজার কেজি আলু উৎপাদন হয়েছে। প্রতি কেজি আলু উৎপাদনে খরচ হয়েছে ১৩ টাকা ৩৩ পয়সা। আলু উত্তোলন ও পরিবহনে খরচ কেজিপ্রতি ১ টাকা। আলু সংরক্ষণে হিমাগার ভাড়া দ্বিগুণ করে বস্তাপ্রতি ৪৪০ টাকা নির্ধারণ করেছেন হিমাগার মালিকরা। এতে করে প্রতি কেজি আলুতে হিমাগার খরচ ৬ টাকা ৯৮ পয়সা পড়ে। সব মিলে এক কেজি আলুর দাম পড়ে ২৪ টাকা। অথচ বাজারে আলু বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১৬ টাকা ৫০ পয়সা দরে। ফলে প্রতি কেজি আলুতে ৭ টাকা ৫০ পয়সা করে ক্ষতির মুখে পড়ছেন চাষিরা। তাই আলু সংরক্ষণে হিমাগার ভাড়া আড়াইশ থেকে সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা করতে আন্দোলনে নামতে হয়েছে। হিমাগার মালিকদের সিন্ডিকেট চাইছে কৃষকের আলু বাড়িতে পচে যাক, আর সরকারের বদনাম হোক।
চাষিরা আরও জানান, উত্তরাঞ্চলে দেশের সবচেয়ে বেশি আলুর উৎপাদন হয়। তাই হিমাগার মালিকরা যোগসাজশ করে রংপুর ও রাজশাহী বিভাগে হিমাগার ভাড়া বাড়িয়েছে। অথচ দেশের অন্য বিভাগে হিমাগার ভাড়া স্বাভাবিক আছে। হিমাগার মালিকরা একতরফা ভাবে ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না করলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
এ সময় মহাসড়কে আলু ফেলে প্রতিবাদ জানায় চাষিরা। এদিকে আলু চাষিদের ঘণ্টাব্যাপী আন্দোলন কর্মসূচির কারণে রংপুর বিভাগের ৭ জেলার সঙ্গে ঢাকার যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। রাস্তার দুই ধারে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।