সোলার সিটি’র আওতায় আনতে সমন্বিত উদ্যোগে কেসিসি’র প্রশাসক
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস সৌরবিদ্যুৎ সম্পর্কে সাধারণ মানুষের জ্ঞান এখনও সীমিত।
তাই সৌর প্রযুক্তির প্রসার ঘটাতে প্রশিক্ষিত জনবল, কারিগরি সহায়তা
এবং শক্তিশালী সাপোর্ট নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।
বুধবার (১৭ জুন) নগরীর সোনাডাঙ্গা দ্বিতীয় ফেজের সোলার এনার্জি
পার্কের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে আয়োজিত নবায়নযোগ্য জ্বালানি হিসেবে সৌরবিদ্যুতের গুরুত্ব:
সমস্যা, সম্ভাবনা এবং করণীয় শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানের আয়োজন করে পরিবেশ সুরক্ষা মঞ্চ, খুলনা।
সভায় সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ সুরক্ষা মঞ্চের সভাপতি ড. কুদরত-ই-খুদা।
স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক সুতপা বেদজ্ঞ। কী-নোট পেপার উপস্থাপন করেন
সংগঠনের সদস্য মেরিনা যুথি।
সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেডিএর প্রধান প্রকৌশলী
কাজী সাবিরুল আলম, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক, পরিবেশ অধিদপ্তর
খুলনার পরিচালক মিহির লাল সরদার, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. ইয়াহিয়া
আক্তার, জেডনেট বিডির সমন্বয়কারী আবুল কালাম আজাদ, খুলনা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক
তরিকুল ইসলাম এবং ওজোপাডিকোর সহকারী প্রকৌশলী নন্দ লাল সরকার।
নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে
অতীত অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে মঞ্জু বলেন, বিভিন্ন সময়ে স্কুল, মসজিদসহ নানা প্রতিষ্ঠানে
সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হলেও পর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণ ও কারিগরি সহায়তার অভাবে
অনেক প্রকল্প টেকসই হয়নি। ফলে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় একটি শক্তিশালী সাপোর্ট নেটওয়ার্ক
গড়ে তোলা জরুরি।
তিনি বলেন, বিচ্ছিন্নভাবে কাজ করলে সৌরবিদ্যুৎভিত্তিক উদ্যোগ দীর্ঘস্থায়ী
হবে না। নাগরিক সমাজ, পরিবেশবাদী সংগঠন, উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান এবং সিটি কর্পোরেশন
একসঙ্গে কাজ করলে খুলনায় সৌরবিদ্যুতের বিস্তার সম্ভব হবে।
কেসিসি প্রশাসক জানান, খুলনা নগরীর বিভিন্ন সড়কে বর্তমানে যে আলোকসজ্জা
রয়েছে, তা পর্যায়ক্রমে সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনার সম্ভাবনা যাচাই করা হচ্ছে। পাশাপাশি
পরীক্ষামূলকভাবে দুটি আবাসিক এলাকাকে সম্পূর্ণ সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে আলোকিত করার বিষয়ও
বিবেচনায় রয়েছে।
সোলার এনার্জি পার্কের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও পার্কের উন্নয়নের আশ্বাস
দিয়ে তিনি বলেন, ভবনটিতে আধুনিক শীতাতপ বা এয়ার কুলিং ব্যবস্থা, সেমিনার উপযোগী পরিবেশ
এবং পার্কে শিশুদের জন্য বিভিন্ন রাইড স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা চাই এটি একটি প্রাণবন্ত নাগরিক কেন্দ্র হিসেবে
গড়ে উঠুক, যেখানে পরিবার নিয়ে মানুষ সময় কাটাতে পারবে এবং বিভিন্ন সামাজিক ও শিক্ষামূলক
অনুষ্ঠান আয়োজন করা যাবে।
সেমিনারে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তনের
প্রভাব মোকাবিলা এবং টেকসই নগর উন্নয়নে সৌরবিদ্যুতের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা
করা হয়। সরকারি প্রতিষ্ঠান, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, উন্নয়ন সংগঠন, বিশ্ববিদ্যালয়ের
শিক্ষক, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা এতে অংশ নেন।