চট্টগ্রাম মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দা হাফসা ঝুমা বুধবার দুপুরে মনির হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়ে রায় ঘোষণা করেন। ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় শিশু ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত মনির হোসেনকে (৩০) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দা হাফসা ঝুমা বুধবার দুপুরে এ রায় ঘোষণা করেন। এসময় আসামি মুনির হোসেন হাজির ছিলেন।
গত ২১ মে বিকালে বাকলিয়া থানার নূর হোসেন চেয়ারম্যানঘাটা এলাকার বালুর মাঠ সংলগ্ন একটি গুদামকক্ষে এ ঘটনা ঘটে।
ট্রাইব্যুনালের পিপি মাহমুদ-উল আলম চৌধুরী মারুফ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দেবে এই রায়।
মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় গত বুধবার। তিন কার্যদিবসে ১৮ জন সাক্ষীর জবানবন্দি শোনে আদালত।
আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানিতে সোমবার আসামি মনির হোসেন নিজেকে 'নির্দোষ' দাবি করেন। তবে তার পক্ষে কোনো সাফাই সাক্ষী উপস্থাপন করা হয়নি।
২১ মে বিকালে সেখানে সাড়ে তিন বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে মনিরের বিরুদ্ধে।
খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাকে আটক করে। পুলিশ মনিরকে থানায় নেওয়ার চেষ্টা করলে এলাকাবাসী বাধ সাধে।
ওই সময় তারাই (এলাকাবাসী) ওই যুবকের ‘শাস্তি’ নিশ্চিত করতে চায়।
দুই ঘণ্টা চেষ্টা করেও মনিরকে থানায় নিয়ে যেতে না পেরে পুলিশ সন্ধ্যায় টিয়ার শেল ছোড়ে।
এক পর্যায়ে স্থানীয়রা জড়ো হয়ে পুলিশের গাড়ি ঘিরে ফেলে। দফায় দফায় সংঘর্ষে বাকলিয়া এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
পুলিশের একটি বড় ট্রাকে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। এসময় সাংবাদিকসহ অন্তত ৪০ জন আহত হন।
সেদিন শিশুটিকে উদ্ধারের পর চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। শিশুটির বাবা বাকলিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন।
সেই মামলায় ২২ মে বিকালে মনির হোসেনকে চট্টগ্রামের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবু বক্কর সিদ্দিকের আদালতে হাজির করার হলে তিনি ‘স্বীকারোক্তিমূলক’ জবানবন্দি দেন বলে সে সময় পুলিশের তরফ থেকে জানানো হয়।
দুই সপ্তাহ তদন্তের পর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বাকলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) তানভীর আহমেদ গত ৪ জুন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
অভিযোগপত্ত্রে আসামি মনির হোসেনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)-এর ৯(১) ধারায় ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়। মামলায় মোট ২২ জনকে সাক্ষী করা হয় ।
চট্টগ্রাম মহানগরের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দা হাফছা ঝুমা ৯ জুন আসামি মনির হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে তার বিচার শুরুর আদেশ দেন। পরদিন শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ।
মামলার আসামি মনিরের বাড়ি কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ঘারঘাটা এলাকায়। চট্টগ্রামে তিনি চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকার একটি ডেকোরেটরের দোকানে কর্মরত ছিলেন।