নূর আলম, গোপালপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৭ জুন ২০২৬ ১৬:২২ পিএম
২০১টি গম্বুজ বিশিষ্ট দ্বিতল এ মসজিদে একসঙ্গে প্রায় ১৫ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
টাঙ্গাইল জেলার গোপালপুর উপজেলা সদর থেকে প্রায় সাত কিলোমিটার পশ্চিমে ঝিনাই নদীর তীরঘেঁষা দক্ষিণ পাথালিয়া গ্রামে নির্মিত হয়েছে দৃষ্টিনন্দন ২০১ গম্বুজ মসজিদ। ব্যতিক্রমী স্থাপত্যশৈলী, বিশাল পরিসর এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধার সমন্বয়ে এটি ইতোমধ্যেই দেশ-বিদেশের মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
প্রায় ১৫ বিঘা জমির ওপর নির্মাণাধীন এ মসজিদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এর ২০১টি গম্বুজ। মসজিদের কেন্দ্রস্থলে রয়েছে প্রায় ৮১ ফুট উচ্চতার একটি বৃহৎ গম্বুজ এবং এর চারপাশে সমদূরত্বে স্থাপিত হয়েছে প্রায় ২৫ ফুট উচ্চতার আরও ২০০টি গম্বুজ।
মসজিদের আরেকটি আকর্ষণ হলো এর সুউচ্চ মিনার। প্রায় ৪৫১ ফুট উচ্চতার ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম মিনার’দেশের অন্যতম উঁচু মিনার হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। মিনার নির্মাণের আগে প্রয়োজনীয় অনুমোদনও গ্রহণ করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে। এছাড়া মসজিদের চার কোণায় প্রায় ১১৫ ফুট উচ্চতার চারটি এবং ৯১ ফুট উচ্চতার আরও চারটি মিনার স্থাপন করা হয়েছে, যা পুরো স্থাপনাটিকে আরও নান্দনিক করে তুলেছে।

মসজিদটির দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ উভয়ই প্রায় ১৪৯ ফুট। দ্বিতল এ মসজিদে একসঙ্গে প্রায় ১৫ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন বলে জানা গেছে। আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন এই মসজিদে থাকবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, প্রশস্ত নামাজের স্থান এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুবিধা।
মসজিদের অভ্যন্তরে টাইলসের ওপর পিতলের খোদাইয়ের মাধ্যমে পবিত্র কোরআনের ৩০ পারা লিখা হয়েছে। ফলে দর্শনার্থী ও মুসল্লিরা সহজেই তা পাঠ করতে পারবেন। এছাড়া মিম্বার, মিহরাব, মিনার, রিওয়াকসহ একটি পূর্ণাঙ্গ মসজিদের সব উপাদানই এতে সংযোজিত হচ্ছে। অভ্যন্তরীণ নকশা, আরবি ক্যালিগ্রাফি, পাথরের কারুকাজ এবং অলংকরণ মসজিদটির সৌন্দর্যকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।
মসজিদের উত্তর পাশে নির্মিত হচ্ছে দুটি পৃথক পাঁচতলা ভবন। সেখানে দুস্থ নারীদের জন্য পুনর্বাসন ব্যবস্থা, হাসপাতাল, এতিমখানা, বৃদ্ধাশ্রম এবং অসহায় মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের জন্য কল্যাণমূলক বিভিন্ন সুবিধা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
এছাড়া আকাশপথে যাতায়াতের সুবিধার্থে একটি আধুনিক হেলিপ্যাড নির্মাণ করা হয়েছে। ঝিনাই নদীর ওপর সেতু নির্মাণ এবং নদী উন্নয়নের মাধ্যমে পুরো এলাকাকে একটি আকর্ষণীয় ধর্মীয় ও পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মসজিদের তত্ত্বাবধায়ক আলহাজ মো. হুমায়ুন কবির বলেন, “২০১ গম্বুজ মসজিদ শুধু একটি নামাজের স্থান নয়, এটি হবে ধর্মীয়, মানবিক ও সামাজিক সেবার একটি অনন্য কেন্দ্র। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মসজিদের স্থাপত্যশৈলী পর্যবেক্ষণ করে এ মসজিদের নকশা প্রণয়ন করা হয়েছে”।
তিনি বলেন, “এখানে মুসল্লিদের জন্য আধুনিক সব সুবিধা রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি এতিমখানা, বৃদ্ধাশ্রম, হাসপাতাল ও অসহায় মানুষের কল্যাণে বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে এটি দেশ-বিদেশের দর্শনার্থীদের জন্যও আকর্ষণীয় স্থান হয়ে উঠবে বলে আমরা আশা করছি”।
তিনি জানান, বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলামের নামে প্রতিষ্ঠিত ট্রাস্টের তত্ত্বাবধানে এ মসজিদের নির্মাণকাজ পরিচালিত হচ্ছে। ব্যক্তিগত অনুদান, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও দাতাদের সহযোগিতায় এগিয়ে চলছে এ বৃহৎ ধর্মীয় স্থাপনার নির্মাণকাজ।
নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে ২০১ গম্বুজ মসজিদ শুধু বাংলাদেশের নয়, মুসলিম বিশ্বের অন্যতম দর্শনীয় ধর্মীয় স্থাপনা হিসেবে পরিচিতি লাভ করবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।