সিনিয়র রিপোর্টার, ওয়েস্ট জোন
প্রকাশ : ১৬ জুন ২০২৬ ২১:১৮ পিএম
কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য দিন দিন বেড়েই চলেছে। সরকারি হাসপাতাল থেকে বিনামূল্যে বা স্বল্প খরচে চিকিৎসা পাওয়ার কথা থাকলেও দালাল চক্রের কারণে সাধারণ রোগী ও তাদের স্বজনরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন প্রতিনিয়ত।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতি দিন অন্তত ৭০০ রোগী দেখা হয় এবং ১০০ থেকে ১২০ জন রোগী ভর্তি হন। হাসপাতালে মোট ১২৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকার কথা থাকলেও রয়েছেন মাত্র ৭১ জন। ১৯ জন মেডিক্যাল অফিসারের মধ্যে রয়েছেন মাত্র সাতজন। ফলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হয়।
স্থানীয়রা জানান, হাসপাতালে আসা রোগীদের বিভিন্ন ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও বেসরকারি চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্য দালালরা ওত পেতে থাকে। রোগীদের ভুল তথ্য দিয়ে সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার বিষয়ে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করা হয়। এরপর কমিশনের বিনিময়ে তাদের নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়।
সম্প্রতি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন রোগী অভিযোগ করেন, হাসপাতালের ভেতরেই কিছু ব্যক্তি নিজেদের কর্মচারী পরিচয় দিয়ে রোগীদের কাছে গিয়ে দ্রুত চিকিৎসা ও পরীক্ষার ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলে অর্থ আদায় করছে। অনেক সময় দরিদ্র ও অসহায় রোগীরা প্রতারণার শিকার হচ্ছেন।
কুশনা গ্রাম থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রবিউল ইসলাম বলেন, “হাসপাতালে আসার পর একজন ব্যক্তি নিজেকে হাসপাতালের কর্মচারী পরিচয় দিয়ে একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেন। পরে সেখানে গিয়ে সরকারি হাসপাতালের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি টাকা খরচ করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হয়েছে”।
বলুহর গ্রাম থেকে আসা গোবিন্দ হালদার বলেন, “আমার মেয়েকে সিজার করার জন্য রাতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসি। হাসপাতালের ভেতর থেকে দুজন ব্যক্তি নিজেদের কর্মচারী পরিচয় দিয়ে বলেন, এখানে সিজার হবে না, পাশের একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে নিয়ে যান। তাদের কথামতো ওই ক্লিনিকে আমার মেয়ের সিজার করালাম। তবে অনেক টাকা বিল দিতে হলো। আমাদের মতো গরিব মানুষ সরকারি হাসপাতালে এসে চিকিৎসা পাই না, এটা সত্যিই খুব কষ্টের”।
স্থানীয় কলেজ শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বলেন, “দীর্ঘ দিন ধরেই একটি সংঘবদ্ধ দালাল চক্র হাসপাতালকে কেন্দ্র করে এই অবৈধ বাণিজ্য চালিয়ে আসছে। প্রশাসনের নজরদারির অভাব ও কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে দালালরা দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নজর দেওয়া উচিত”।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এ এম আশরাফুল আলম বলেন, “আমি এখানে নতুন যোগদান করেছি। ফলে হাসপাতালের অনেক কিছুই আমার জানা নেই”।
এ ব্যাপারে জেলা সিভিল সার্জন ডা. কামরুজ্জামান বলেন, “দালাল চক্রের বিষয়টি শুনেছি। ওই হাসপাতাল দালালমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে। দালাল চক্রসহ হাসপাতালের কোনো স্টাফের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে”।