নারায়ণগঞ্জে গ্যাস বিস্ফোরণ
নারায়ণগঞ্জ অফিস
প্রকাশ : ১৬ জুন ২০২৬ ১৭:২০ পিএম
জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় গ্যাস বিস্ফোরণে দগ্ধ একই পরিবারের কেউই আর বেঁচে রইলেন না। বাবা, মা ও ভাইয়ের পর এবার মারা গেল ১৩ বছরের শিশু মিমও। ঢাকার জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)তে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ মঙ্গলবার (১৬ জুন) শেষরাত ১টা ৪০ মিনিটে মিমের মৃত্যু হয়। এ মর্মান্তিক ঘটনায় এই পর্যন্ত মৃত্যুর সংখ্যা চারজনে পৌছাল।
জাতীয়
বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন সহকারী অধ্যাপক ডা. শাওন
বিন রহমান মিমের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আইসিইউ’র ১৪ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন মিমের শরীরের ৫১ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল এবং
তার শ্বাসনালী মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। চিকিৎসকদের সর্বাত্মক চেষ্টা ব্যর্থ
করে দিয়ে আজ ভোররাতে সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে।
এর
আগে একই ঘটনায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত শুক্রবার (১২ জুন) দুপুরে মারা যান মা সুলতানা
বেগম (৩৫), যার শরীরের ৯০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। এরপর গত সোমবার (১৫ জুন) ভোরে আইসিইউ’র ১৫ নম্বর বেডে মারা যান ৩৫ শতাংশ দগ্ধ বাবা আব্দুল মান্নান (৫০)।
এর কয়েক ঘণ্টা পর সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে ৩ নম্বর বেডে মারা যান ৭৭ শতাংশ দগ্ধ ছেলে সিয়াম
(১৯)। মিমের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে পুরো পরিবারটিই নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল।
বর্তমানে
এ ঘটনায় কেবল প্রতিবেশী শিশু হযরত আলী (৮) জীবিত রয়েছে। সে ৮ শতাংশ দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালের
অবজারভেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকাল সাড়ে ৬টার
দিকে বন্দর উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নের চানপুর এলাকার একটি একতলা বাড়িতে এ ভয়াবহ বিস্ফোরণের
ঘটনা ঘটে।